যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ দেশে নানা চাপে থাকলেও বিশ্বজুড়ে তার জাতীয়তাবাদী ও ডানপন্থি জনতুষ্টিবাদী (পপুলিস্ট) মতাদর্শের প্রভাব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। ইউরোপ থেকে লাতিন আমেরিকা পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে অভিবাসনবিরোধিতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষোভকে পুঁজি করে ডানপন্থি রাজনৈতিক শক্তির এই উত্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সিএনএনের এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় ট্রাম্পঘনিষ্ঠ সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোর বড় সাফল্য এই বৈশ্বিক প্রবণতার সর্বশেষ প্রমাণ। দ্বিতীয় দফায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম গণতন্ত্র ফের কট্টর ডানপন্থার দিকে ঝুঁকবে। এছাড়া কলম্বিয়া, কোস্টারিকা ও আর্জেন্টিনায় হাভিয়ের মিলেইর মতো ট্রাম্পঘনিষ্ঠ নেতাদের উত্থান এই অঞ্চলে রক্ষণশীল ধারাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ইউরোপের পরিস্থিতিও ভিন্ন নয়। ফ্রান্সে আগামী নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন ডানপন্থি নেত্রী মেরিন ল্য পেন। জার্মানিতে অভিবাসনবিরোধী দল ‘অলটারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি) পার্লামেন্টে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তিতে পরিণত হয়ে দেশটির রাজনীতিতে তীব্র মেরুকরণ তৈরি করেছে। যদিও এসব দল হুবহু ট্রাম্পের নীতি অনুসরণ করছে না, তবে ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলন তাদের বড় ধরনের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।
তবে এই ডানপন্থি উত্থানের সমান্তরালে যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে মধ্যপন্থি ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তির পাল্টা প্রতিরোধও গড়ে উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বরাজনীতিতে ডানপন্থি জনতুষ্টিবাদ এখন কেবল একক কোনো নেতার ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও সামাজিক মেরুকরণকে কেন্দ্র করে এটি একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
মন্তব্যসমূহ