২০১৪ সালের ৩ অক্টোবর গ্রেপ্তার হয়ে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে যাওয়ার স্মৃতি ১২ বছর পরও ভুলতে পারেননি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রুমি। কারাবাসের সেই সময়কে নিজের রাজনৈতিক জীবনের ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, কারাগারের অন্ধকার তাকে দুর্বল করেনি, বরং নিজের আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি আরও দৃঢ় করেছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ২০১৪ সালের ওই দিনের স্মৃতিচারণ করেন মুস্তাফিজুর রহমান রুমি।
তিনি জানান, ০৩ অক্টোবর ২০১৪ইং, একটি দিন, যা আজও ভুলতে পারিনি। ওই দিন তিনি ষষ্ঠবারের মতো গ্রেপ্তার হন এবং দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে যেতে হয়। কারাগারের সেই সময়ের স্মৃতি মনে পড়লে এখনো তার বুক ভার হয়ে আসে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কারাবাসের সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রুমি বলেন, শত অত্যাচার-নির্যাতন, ভয় ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দেশ, দলের আদর্শ ও রাজনৈতিক কমিটমেন্ট থেকে সরে আসেননি। বরং কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে নতুন উদ্যমে রাজপথে নেমেছেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সোচ্চার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
কারাগারে থাকার সময়ের মানসিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কঠিন সময় কখন শেষ হবে, তা নিয়ে অনেকবার তার মনে প্রশ্ন জেগেছে। ওই সময়ে প্রিয়জন ও রাজপথের সহযোদ্ধাদের কথাও মনে পড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি মনে পড়েছে নিজের বিশ্বাস, আদর্শ এবং যে পথকে সত্য মনে করে রাজনীতিতে এসেছিলেন, সেই পথের কথা।
রুমি আরও বলেন, ব্যক্তিগত কষ্ট ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সেই বিশ্বাস থেকে সরে আসেননি। যতবারই কারাগারে যেতে হয়েছে, কারাগারের অন্ধকার তাকে দুর্বল করতে পারেনি; বরং নিজের অবস্থান, আদর্শ ও প্রতিশ্রুতির প্রতি আরও দৃঢ় করেছে।
নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে কাটানো সময়কে শুধু কারাবাসের স্মৃতি হিসেবে দেখেন না জানিয়ে রুমি বলেন, এটি তার রাজনৈতিক জীবনের একটি কঠিন পরীক্ষা ছিল। সেই পরীক্ষা তাকে আরও দৃঢ় ও প্রত্যয়ী করে রাজপথে ফিরিয়ে এনেছিল বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
শেষাংশে তিনি রাজনৈতিক আন্দোলনে কর্মীদের ত্যাগের কথা তুলে ধরে বলেন, তাদের মতো হাজার হাজার কর্মীর শ্রম, ঘাম, রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের বাংলাদেশ।
মন্তব্যসমূহ