ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

চট্টগ্রামে দুর্গোৎসবের আলোয় উৎসবের প্রস্তুতি

চট্টগ্রামে দুর্গোৎসবের আলোয় উৎসবের প্রস্তুতি
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ঢাকের বাদ্য, কাশফুলের শুভ্রতা আর শিউলির গন্ধে শারদীয় দুর্গোৎসবের বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে চট্টগ্রামজুড়ে। নগর থেকে গ্রাম, মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমায় পড়ছে রঙের শেষ আঁচড়, উৎসবের আলোয় সাজছে পূজামণ্ডপ।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ২ হাজার ৫৬৮টি পূজার আয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে জেলায় ২ হাজার ২৭৪টি এবং মহানগরে ২৯৪টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের হিসাবে, জেলার এসব আয়োজনের মধ্যে ১ হাজার ৬৫৫টি প্রতিমা পূজা এবং ৬১৯টি ঘট পূজা। গত বছরের তুলনায় এবার জেলায় পূজা বেড়েছে ৭২টি। মহানগরেও বেড়েছে দুটি।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তালিকা অনুযায়ী, দক্ষিণ চট্টগ্রামের আট উপজেলায় মোট ১ হাজার ৩৯৬টি পূজার আয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিমা পূজা ৭৯৬টি এবং ঘট পূজা ৬০০টি। উত্তর চট্টগ্রামের সাত উপজেলায় মোট পূজা ৮৭৮টি। এর মধ্যে প্রতিমা পূজা ৮৫৯টি এবং ঘট পূজা ১৯টি। ফলে মোট আয়োজনের দিক থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রাম এগিয়ে থাকলেও প্রতিমা পূজায় উত্তর চট্টগ্রামের অবস্থান তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে ঘট পূজায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের আধিক্য রয়েছে।

জেলায় প্রতিমা পূজার হিসাবে সবচেয়ে বেশি আয়োজন রাউজানে, ২৩৩টি। তবে প্রতিমা ও ঘট—দুই ধরনের পূজা মিলিয়ে সর্বোচ্চ আয়োজন আনোয়ারায়। সেখানে মোট ৩১১টি পূজা হচ্ছে। এর মধ্যে ১১৪টি প্রতিমা এবং ১৯৭টি ঘট পূজা।

এরপর বাঁশখালীতে ২৬৭টি, পটিয়ায় ২০১টি, সাতকানিয়ায় ২০০টি এবং রাঙ্গুনিয়ায় ১৯৯টি পূজার আয়োজন রয়েছে।

জেলায় সবচেয়ে কম পূজার আয়োজন কর্ণফুলীতে, ২৪টি। এর মধ্যে ১৪টি প্রতিমা এবং ১০টি ঘট পূজা। এছাড়া সন্দ্বীপে ৩২টি, সীতাকুণ্ডে ৭০টি, মীরসরাইয়ে ৯০টি, লোহাগাড়ায় ১১২টি, হাটহাজারীতে ১২৪টি, ফটিকছড়িতে ১২৭টি, চন্দনাইশে ১৩৫টি এবং বোয়ালখালীতে ১৪৬টি পূজার আয়োজন রয়েছে।

মহানগরে সবচেয়ে বেশি পূজার আয়োজন কোতোয়ালি থানায়, ৮৭টি। এরপর বায়েজিদে ২৪টি, কর্ণফুলীতে ২৩টি, সদরঘাট ও পাহাড়তলীতে ২১টি করে এবং চান্দগাঁও ও বন্দরে ২০টি করে পূজা রয়েছে। খুলশী, পাঁচলাইশ ও পতেঙ্গায় ১০টি করে, হালিশহরে ৮টি, ইপিজেডে ৭টি এবং বাকলিয়ায় ৬টি পূজা হচ্ছে। সবচেয়ে কম ডবলমুরিংয়ে, ৪টি।

গত বছরের তুলনায় এবার পূজার পরিসরও বেড়েছে। ২০২৫ সালে জেলায় মোট ২ হাজার ২০২টি পূজা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রতিমা পূজা ছিল ১ হাজার ৫৮৫টি এবং ঘট পূজা ৬১৭টি। এবার মোট পূজা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ২৭৪টি। অর্থাৎ এক বছরে বেড়েছে ৭২টি। প্রতিমা পূজা বেড়েছে ৭০টি এবং ঘট পূজা বেড়েছে দুটি। মহানগরেও গত বছরের ২৯২টির বিপরীতে এবার ২৯৪টি পূজার আয়োজন রয়েছে।

কয়েকটি উপজেলায় ঘট পূজার সংখ্যা বেশি হওয়ার বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ বলেন, দু-একটি উপজেলায় ঘট পূজা বা ব্যক্তিগত পূজা আগে থেকেই তালিকাভুক্ত ছিল। এবারও সেই তালিকা অনুযায়ী তা দেওয়া হয়েছে। ওই তালিকা ধরেই সরকারিভাবে ভোগ্যপণ্য ও চাল দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় কমিটি তালিকা দেওয়ার পর তা জেলা কমিটির মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কমিটি সমন্বয় করে ভোগ্যপণ্য বিতরণ করে।

নিতাই প্রসাদ ঘোষ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। এরপরও বিভিন্ন কারণে তাদের মধ্যে শঙ্কা ও ভয় কাজ করছে।

নিরাপত্তা নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিখিল কুমার নাথ। তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের সঙ্গে তাদের সভা রয়েছে।

মহানগরে পূজার সংখ্যার ভিন্নতা প্রসঙ্গে নিখিল কুমার নাথ বলেন, কোতোয়ালি থানায় চট্টগ্রামের অধিকাংশ সনাতন ধর্মাবলম্বীর বসবাস হওয়ায় সেখানে পূজার সংখ্যা বেশি। অন্যদিকে ডবলমুরিং এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীর বসবাস তুলনামূলক কম হওয়ায় সেখানে পূজার সংখ্যা সর্বনিম্ন।

তবে পূজা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই শঙ্কা বাড়ছে বলে জানান নিখিল কুমার নাথ। তার ভাষ্য, অতীতের মতো ধর্মান্ধ কিংবা সাম্প্রদায়িক কোনো গোষ্ঠী পূজাকে সামনে রেখে পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার আশঙ্কা, যেকোনো উচ্ছৃঙ্খল গোষ্ঠী অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসনসহ সবাইকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী বলেন, নিরাপত্তার বিষয়ে মহানগরের সব থানা কমিটিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেখানে যেখানে দুর্গা প্রতিমা তৈরি হচ্ছে, সেখানে পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে।

২০২৪ সালের শারদীয় দুর্গাপূজায় জেএম সেন হলের স্টেজে একদল লোক উঠে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার সব অনুষ্ঠানমালা আগেই লিপিবদ্ধ থাকবে। বিভিন্ন সংগঠন এবং যারা অনুষ্ঠানে পরিবেশনা করবে, তাদের বিষয়েও আগেই তালিকা করা হবে। ২০২৪ সালের মতো কোনো ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হবে।

আসন্ন দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবকিছু যথাযথভাবে বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পূজার আয়োজন বাড়ায় উৎসবের পরিধি যেমন বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি নিরাপত্তা ঘিরে আয়োজকদের প্রত্যাশাও বেড়েছে। তাদের চাওয়া, শুধু প্রতিমা ও মণ্ডপ পাহারা নয়, মণ্ডপকেন্দ্রিক অনুষ্ঠান, দর্শনার্থীদের চলাচল এবং পুরো উৎসবের পরিবেশ নিরাপদ রাখতে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

কারণ ঢাকের বাদ্য আর উৎসবের আলোয় চট্টগ্রাম যখন শারদোৎসবের অপেক্ষায়, তখন সেই আনন্দের ওপর যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কালো ছায়া না পড়ে—এটাই এখন আয়োজকদের প্রধান শঙ্কা।

ট্যাগ : চট্টগ্রাম দুর্গাপূজা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


চট্টগ্রামে দুর্গোৎসবের আলোয় উৎসবের প্রস্তুতি

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ঢাকের বাদ্য, কাশফুলের শুভ্রতা আর শিউলির গন্ধে শারদীয় দুর্গোৎসবের বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে চট্টগ্রামজুড়ে। নগর থেকে গ্রাম, মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমায় পড়ছে রঙের শেষ আঁচড়, উৎসবের আলোয় সাজছে পূজামণ্ডপ।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ২ হাজার ৫৬৮টি পূজার আয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে জেলায় ২ হাজার ২৭৪টি এবং মহানগরে ২৯৪টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের হিসাবে, জেলার এসব আয়োজনের মধ্যে ১ হাজার ৬৫৫টি প্রতিমা পূজা এবং ৬১৯টি ঘট পূজা। গত বছরের তুলনায় এবার জেলায় পূজা বেড়েছে ৭২টি। মহানগরেও বেড়েছে দুটি।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তালিকা অনুযায়ী, দক্ষিণ চট্টগ্রামের আট উপজেলায় মোট ১ হাজার ৩৯৬টি পূজার আয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিমা পূজা ৭৯৬টি এবং ঘট পূজা ৬০০টি। উত্তর চট্টগ্রামের সাত উপজেলায় মোট পূজা ৮৭৮টি। এর মধ্যে প্রতিমা পূজা ৮৫৯টি এবং ঘট পূজা ১৯টি। ফলে মোট আয়োজনের দিক থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রাম এগিয়ে থাকলেও প্রতিমা পূজায় উত্তর চট্টগ্রামের অবস্থান তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে ঘট পূজায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের আধিক্য রয়েছে।

জেলায় প্রতিমা পূজার হিসাবে সবচেয়ে বেশি আয়োজন রাউজানে, ২৩৩টি। তবে প্রতিমা ও ঘট—দুই ধরনের পূজা মিলিয়ে সর্বোচ্চ আয়োজন আনোয়ারায়। সেখানে মোট ৩১১টি পূজা হচ্ছে। এর মধ্যে ১১৪টি প্রতিমা এবং ১৯৭টি ঘট পূজা।

এরপর বাঁশখালীতে ২৬৭টি, পটিয়ায় ২০১টি, সাতকানিয়ায় ২০০টি এবং রাঙ্গুনিয়ায় ১৯৯টি পূজার আয়োজন রয়েছে।

জেলায় সবচেয়ে কম পূজার আয়োজন কর্ণফুলীতে, ২৪টি। এর মধ্যে ১৪টি প্রতিমা এবং ১০টি ঘট পূজা। এছাড়া সন্দ্বীপে ৩২টি, সীতাকুণ্ডে ৭০টি, মীরসরাইয়ে ৯০টি, লোহাগাড়ায় ১১২টি, হাটহাজারীতে ১২৪টি, ফটিকছড়িতে ১২৭টি, চন্দনাইশে ১৩৫টি এবং বোয়ালখালীতে ১৪৬টি পূজার আয়োজন রয়েছে।

মহানগরে সবচেয়ে বেশি পূজার আয়োজন কোতোয়ালি থানায়, ৮৭টি। এরপর বায়েজিদে ২৪টি, কর্ণফুলীতে ২৩টি, সদরঘাট ও পাহাড়তলীতে ২১টি করে এবং চান্দগাঁও ও বন্দরে ২০টি করে পূজা রয়েছে। খুলশী, পাঁচলাইশ ও পতেঙ্গায় ১০টি করে, হালিশহরে ৮টি, ইপিজেডে ৭টি এবং বাকলিয়ায় ৬টি পূজা হচ্ছে। সবচেয়ে কম ডবলমুরিংয়ে, ৪টি।

গত বছরের তুলনায় এবার পূজার পরিসরও বেড়েছে। ২০২৫ সালে জেলায় মোট ২ হাজার ২০২টি পূজা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রতিমা পূজা ছিল ১ হাজার ৫৮৫টি এবং ঘট পূজা ৬১৭টি। এবার মোট পূজা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ২৭৪টি। অর্থাৎ এক বছরে বেড়েছে ৭২টি। প্রতিমা পূজা বেড়েছে ৭০টি এবং ঘট পূজা বেড়েছে দুটি। মহানগরেও গত বছরের ২৯২টির বিপরীতে এবার ২৯৪টি পূজার আয়োজন রয়েছে।

কয়েকটি উপজেলায় ঘট পূজার সংখ্যা বেশি হওয়ার বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ বলেন, দু-একটি উপজেলায় ঘট পূজা বা ব্যক্তিগত পূজা আগে থেকেই তালিকাভুক্ত ছিল। এবারও সেই তালিকা অনুযায়ী তা দেওয়া হয়েছে। ওই তালিকা ধরেই সরকারিভাবে ভোগ্যপণ্য ও চাল দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় কমিটি তালিকা দেওয়ার পর তা জেলা কমিটির মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কমিটি সমন্বয় করে ভোগ্যপণ্য বিতরণ করে।

নিতাই প্রসাদ ঘোষ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। এরপরও বিভিন্ন কারণে তাদের মধ্যে শঙ্কা ও ভয় কাজ করছে।

নিরাপত্তা নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিখিল কুমার নাথ। তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের সঙ্গে তাদের সভা রয়েছে।

মহানগরে পূজার সংখ্যার ভিন্নতা প্রসঙ্গে নিখিল কুমার নাথ বলেন, কোতোয়ালি থানায় চট্টগ্রামের অধিকাংশ সনাতন ধর্মাবলম্বীর বসবাস হওয়ায় সেখানে পূজার সংখ্যা বেশি। অন্যদিকে ডবলমুরিং এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীর বসবাস তুলনামূলক কম হওয়ায় সেখানে পূজার সংখ্যা সর্বনিম্ন।

তবে পূজা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই শঙ্কা বাড়ছে বলে জানান নিখিল কুমার নাথ। তার ভাষ্য, অতীতের মতো ধর্মান্ধ কিংবা সাম্প্রদায়িক কোনো গোষ্ঠী পূজাকে সামনে রেখে পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার আশঙ্কা, যেকোনো উচ্ছৃঙ্খল গোষ্ঠী অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসনসহ সবাইকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী বলেন, নিরাপত্তার বিষয়ে মহানগরের সব থানা কমিটিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেখানে যেখানে দুর্গা প্রতিমা তৈরি হচ্ছে, সেখানে পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে।

২০২৪ সালের শারদীয় দুর্গাপূজায় জেএম সেন হলের স্টেজে একদল লোক উঠে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার সব অনুষ্ঠানমালা আগেই লিপিবদ্ধ থাকবে। বিভিন্ন সংগঠন এবং যারা অনুষ্ঠানে পরিবেশনা করবে, তাদের বিষয়েও আগেই তালিকা করা হবে। ২০২৪ সালের মতো কোনো ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হবে।

আসন্ন দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবকিছু যথাযথভাবে বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পূজার আয়োজন বাড়ায় উৎসবের পরিধি যেমন বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি নিরাপত্তা ঘিরে আয়োজকদের প্রত্যাশাও বেড়েছে। তাদের চাওয়া, শুধু প্রতিমা ও মণ্ডপ পাহারা নয়, মণ্ডপকেন্দ্রিক অনুষ্ঠান, দর্শনার্থীদের চলাচল এবং পুরো উৎসবের পরিবেশ নিরাপদ রাখতে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

কারণ ঢাকের বাদ্য আর উৎসবের আলোয় চট্টগ্রাম যখন শারদোৎসবের অপেক্ষায়, তখন সেই আনন্দের ওপর যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কালো ছায়া না পড়ে—এটাই এখন আয়োজকদের প্রধান শঙ্কা।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ