ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী।
নেতানিয়াহুকে তিনি যুদ্ধাপরাধী মনে করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ মোহাম্মদ বলেন, ‘অবশ্যই।’ তার ভাষ্য, গাজায় যা করা হয়েছে, তা যুদ্ধাপরাধ এবং এর জন্য যারা দায়ী, তারা যুদ্ধাপরাধী।
তিনি বলেন, গাজার হাসপাতাল ও স্কুলগুলোতে হামলা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের পক্ষে যত যুক্তি বা ব্যাখ্যাই দেওয়া হোক না কেন, কোনো কিছুই সেগুলোকে ন্যায্যতা দিতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, নিজের এবং তার সরকারের কর্মকাণ্ড থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে কাতারকে আক্রমণ করছেন।
২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় ইসরাইলের হামলারও তীব্র নিন্দা জানান শেখ মোহাম্মদ। ওই হামলায় হামাসের কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। সে সময় কাতার গাজা যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল। হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য এবং কাতারের একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেখ মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা যখন মধ্যস্থতা করছিলাম, তখনই ইসরাইল আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’ মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের ওপর এ ধরনের হামলাকে তিনি নজিরবিহীন বলেও মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, নেতানিয়াহু সীমা অতিক্রম করেছেন, যেমন এর আগেও তিনি অন্যান্য সীমা অতিক্রম করেছেন।
তবে এসব উত্তেজনার মধ্যেও কাতার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার দেবে বলে জানান শেখ মোহাম্মদ। তার মতে, পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক যোগাযোগই অগ্রগতির সবচেয়ে কার্যকর পথ।
তিনি বলেন, সমাধানে পৌঁছানোর উপায় খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও ইরানকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা এবং পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করছে কাতার।
আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। এগুলো হলো—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং ইরান ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা।
শেখ মোহাম্মদ বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে হলে সংলাপ, পারস্পরিক হস্তক্ষেপ না করা এবং আগ্রাসন থেকে বিরত থাকার নীতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
এদিকে মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, দোহা মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে। সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে—এ নিয়ে কাতার উদ্বিগ্ন বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন আল-আনসারি।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদের নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দেওয়ার বক্তব্যটি তার সাক্ষাৎকারে দেওয়া রাজনৈতিক ও আইনি মূল্যায়ন হিসেবে এসেছে। যুদ্ধাপরাধের মতো অভিযোগের চূড়ান্ত আইনি নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়।
মন্তব্যসমূহ