দক্ষিণ আফ্রিকায় দেশব্যাপী গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’। অনিবন্ধিত বিদেশি নাগরিকদের ইস্যুর পাশাপাশি সাম্প্রতিক নারী হত্যা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও অপরাধের প্রতিবাদে আগামী বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ‘মেনস মার্চ’ কর্মসূচিরও ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বরকে অনিবন্ধিত বিদেশিদের দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ার ‘ডেডলাইন’ ঘোষণা করেছিল মার্চ অ্যান্ড মার্চ। তবে এই ডেডলাইনের কোনো আইনগত ক্ষমতা নেই। বিদেশি নাগরিকদের বহিষ্কার বা অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেন, জেনোফোবিয়া, অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরিচিত করা যেতে পারে না। তিনি দেশবাসীকে বর্ণবৈষম্যহীনতা, সমতা, গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদার সাংবিধানিক মূল্যবোধ মেনে চলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নারীর ওপর সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও বলেন তিনি।
অন্যদিকে মার্চ অ্যান্ড মার্চ জানিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে পুরুষদের বিশেষভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, নারীদের হত্যা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে পুরুষদের নীরব না থেকে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। গৌতেং ও কোয়াজুলু-নাটালসহ কয়েকটি এলাকায় মিছিলের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।
এদিকে ডারবানসহ কয়েকটি এলাকায় বিদেশি নাগরিক ও শরণার্থীদের মধ্যে কর্মসূচিকে ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর ডারবান রিফিউজি রিসেপশন সেন্টারের সামনে বিদেশি শরণার্থী ও মার্চ অ্যান্ড মার্চের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বরও স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং বিক্ষোভকারীদের অবশ্যই আইনের মধ্যে থেকে কর্মসূচি পালন করতে হবে। অন্যদিকে মার্চ অ্যান্ড মার্চ জানিয়েছে, তারা কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ রাখবে।
এ পরিস্থিতিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিকদের সম্ভাব্য বিক্ষোভস্থল ও বড় জমায়েত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের নির্দেশনা অনুসরণ করার কথাও বলা হয়েছে।
তবে ৩০ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি কী রূপ নেয়, তা নির্ভর করবে বিক্ষোভের আকার, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কর্মসূচি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবস্থাপনার ওপর।
মন্তব্যসমূহ