সংযুক্ত আরব আমিরাত নিশ্চিত করেছে যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোপনে দেশটি সফর করেছেন এবং আবুধাবিতে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই তথ্য সোমবার রাতে সরকারি আমিরাতি সংবাদ সংস্থা ও কাতারভিত্তিক আল জাজিরা থেকে জানা গেছে।
বৈঠকে দুই পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও উন্নত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে বলে আমিরাতের সরকার জানিয়েছে। বৈঠকটি ইসরায়েলের নির্বাচনের এক মাস পূর্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলার ঠিক আগে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ নেতানিয়াহুকে হামাসের বড় ধরনের অভিযান চালানোর আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন বলে কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানায়, হামলার প্রায় ১০ দিন আগে ওই ফোনালাপ হয়। তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় এই তথ্য অস্বীকার করেছে এবং প্রতিবেদনকে মনগড়া ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছে। নেতানিয়াহু হারেৎজের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন।
২০২৩ সালের হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলায় অন্তত ১,১৯৫ জন নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি নেওয়া হয়। এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ শুরু করে, যা থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩,৬৬৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক আরও উষ্ণ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছে। মে মাসে ইসরায়েল সংযুক্ত আরব আমিরাতের রক্ষা ও নিরাপত্তায় সহায়তার জন্য আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সদস্য মোতায়েন করেছে।
নেতানিয়াহুর এই গোপন সফরের খবর প্রকাশের পর ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। তারা বলেছে, এই সংবাদ প্রধানমন্ত্রী এবং গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রমের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন নেতানিয়াহু আগামী অক্টোবরের কনেসেট নির্বাচনের আগে তার রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। জনমত জরিপে তার বিরুদ্ধে সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোট চ্যালেঞ্জ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্তব্যসমূহ