মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডোনাল্ড ট্রাম্প র ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে এবং দেশটির জব্দ অর্থ ছাড় করার বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিলো, ট্রাম্প এ বিষয়ে রাজি আছেন, তবে বিনিময়ে তেহরানকে পরমাণু ইস্যুতে ‘বাস্তব ও দৃশ্যমান অগ্রগতি’ দেখাতে হবে। এই তথ্য জানিয়েছেন এক অজ্ঞাত নামের মার্কিন কর্মকর্তা।
তবে ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই ট্রাম্প নিজেই সেটি ‘অসত্য’ বলে জানিয়েছেন এবং তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, তিনি ইরানকে কোনো ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেননি। তিনি ওই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তথ্যকে ‘প্রতারণামূলক মিথ্যা খবর’ আখ্যা দিয়েছেন এবং নিউজমিডিয়া অ্যাক্সিওসকে প্রতিবেদন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সংলাপ পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা’ চালাচ্ছে, তবে কোনো চুক্তি হবে না যদি পরমাণু ইস্যুর সমাধান না হয়।
গত শনিবার ট্রাম্প ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেন, যেখানে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তিনি এটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাব সম্পর্কে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, ট্রাম্প প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন কারণ তিনি মনে করেন ইরান আন্তরিকভাবে আলোচনা করছে না। ওয়াল্টজের মতে, ইরান ‘আগেই সবকিছু চাইছে’ যা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
ওয়াল্টজ আরও বলেন, ইরানের প্রস্তাব ছিল একটি কৌশলী এবং সন্দেহজনক উদ্যোগ, যা তারা জানতো যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করবে না। এছাড়া, এক অজ্ঞাত মার্কিন কর্মকর্তাও ইরানের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং উল্লেখ করেন, গত জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ইরান লঙ্ঘন করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি। পাকিস্তা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাও এই দাবির পক্ষে ব্যবহার করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প পরমাণু ইস্যুতে কোনো ছাড় দেওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোন প্রস্তাব দেননি এবং ইরান যে ধরনের চুক্তির জন্য আগ্রহী তা তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না। রোববার তিনি জানিয়েছিলেন, ইরান তাদের অবস্থান বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তিনি এমন একটি চুক্তি করতে চাইছেন না যা সম্ভবত এক বছর আগে গ্রহণযোগ্য হত।
মন্তব্যসমূহ