ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

হুতিদের হামলায় বদলে যাচ্ছে উপসাগরীয় সমীকরণ, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি আরব

হুতিদের হামলায় বদলে যাচ্ছে উপসাগরীয় সমীকরণ, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি আরব
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ইয়েমেনে হুতি বাহিনীর দ্রুত অগ্রযাত্রা এবং সৌদি আরবের জাহাজ ও অবকাঠামোয় হামলা রিয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছে হুতিদের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় জ্বালানি পরিবহন নিয়েও চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। তবে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করেও আপাতত তা থেকে বিরত থেকেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে সহায়তা করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি সংঘাতে জড়িয়ে পড়া এড়ানোর মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে ট্রাম্পকে। সপ্তাহান্তে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত রাখেন তিনি।

এর আগে হুতিরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাম্পকে ফোন করে হামলা চালানোর অনুরোধ করেছিলেন সৌদি যুবরাজ। তবে ওয়াশিংটনের বর্তমান অবস্থানকে সৌদি আরবের সঙ্গে সব ধরনের নিরাপত্তা সহযোগিতা বন্ধের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সেপ্টেম্বরের অভিযানে হুতিরা গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা এবং পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়। মায়ুন নামেও পরিচিত দ্বীপটি বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অবস্থিত। এপির প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের বরাতে এসব এলাকা দখলের তথ্য জানানো হয়েছে।

এই অগ্রযাত্রা হুতিদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথের কাছাকাছি অবস্থান আরও শক্ত করেছে। হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত হওয়ার পর সৌদি তেল পরিবহনের বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগরের গুরুত্ব বেড়েছিল। সৌদি ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্য করে হুতিদের হামলা সেই বিকল্পের ওপরও চাপ তৈরি করেছে।

এদিকে হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি এপিকে জানিয়েছেন, তাঁর গোষ্ঠী মার্কিন প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে হামলা চালাবে না। একই সঙ্গে সৌদি আরবের পক্ষে সংঘাতে যোগ দেওয়া থেকে অন্য দেশগুলোকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

তবে মার্কিন জাহাজে হামলা না করার এই আশ্বাস থেকে সব আন্তর্জাতিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের সংঘাতও চলমান রয়েছে।

সরাসরি অভিযানে না গেলেও সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম জেনস জানিয়েছে, প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এতে ১০ হাজার ৪টি জেডিএএম গাইডেন্স কিট এবং সমসংখ্যক বোমাসহ সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও সহায়তা রয়েছে।

এই অনুমোদনকে অস্ত্র ইতোমধ্যে সরবরাহ হয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। তবে এটি দেখায়, সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে অস্ত্র বিক্রি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়টি পৃথকভাবে বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।

হুতিদের সামরিক অগ্রগতি, সৌদি আরবের সহায়তার অনুরোধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সংঘাতে জড়ানোর অনীহা—সব মিলিয়ে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এখন আঞ্চলিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

ট্যাগ : ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরব হুতি

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হুতিদের হামলায় বদলে যাচ্ছে উপসাগরীয় সমীকরণ, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি আরব

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইয়েমেনে হুতি বাহিনীর দ্রুত অগ্রযাত্রা এবং সৌদি আরবের জাহাজ ও অবকাঠামোয় হামলা রিয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছে হুতিদের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় জ্বালানি পরিবহন নিয়েও চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। তবে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করেও আপাতত তা থেকে বিরত থেকেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে সহায়তা করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি সংঘাতে জড়িয়ে পড়া এড়ানোর মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে ট্রাম্পকে। সপ্তাহান্তে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত রাখেন তিনি।

এর আগে হুতিরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাম্পকে ফোন করে হামলা চালানোর অনুরোধ করেছিলেন সৌদি যুবরাজ। তবে ওয়াশিংটনের বর্তমান অবস্থানকে সৌদি আরবের সঙ্গে সব ধরনের নিরাপত্তা সহযোগিতা বন্ধের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সেপ্টেম্বরের অভিযানে হুতিরা গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা এবং পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়। মায়ুন নামেও পরিচিত দ্বীপটি বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অবস্থিত। এপির প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের বরাতে এসব এলাকা দখলের তথ্য জানানো হয়েছে।

এই অগ্রযাত্রা হুতিদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথের কাছাকাছি অবস্থান আরও শক্ত করেছে। হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত হওয়ার পর সৌদি তেল পরিবহনের বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগরের গুরুত্ব বেড়েছিল। সৌদি ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্য করে হুতিদের হামলা সেই বিকল্পের ওপরও চাপ তৈরি করেছে।

এদিকে হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি এপিকে জানিয়েছেন, তাঁর গোষ্ঠী মার্কিন প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে হামলা চালাবে না। একই সঙ্গে সৌদি আরবের পক্ষে সংঘাতে যোগ দেওয়া থেকে অন্য দেশগুলোকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

তবে মার্কিন জাহাজে হামলা না করার এই আশ্বাস থেকে সব আন্তর্জাতিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের সংঘাতও চলমান রয়েছে।

সরাসরি অভিযানে না গেলেও সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম জেনস জানিয়েছে, প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এতে ১০ হাজার ৪টি জেডিএএম গাইডেন্স কিট এবং সমসংখ্যক বোমাসহ সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও সহায়তা রয়েছে।

এই অনুমোদনকে অস্ত্র ইতোমধ্যে সরবরাহ হয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। তবে এটি দেখায়, সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে অস্ত্র বিক্রি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়টি পৃথকভাবে বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।

হুতিদের সামরিক অগ্রগতি, সৌদি আরবের সহায়তার অনুরোধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সংঘাতে জড়ানোর অনীহা—সব মিলিয়ে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এখন আঞ্চলিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ