ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ, মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু

অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ, মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্রুত হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক দল তাকে খুঁজে বের করতে কাজ করছিল। তদন্তে এরই মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া গেছে।

হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা আইফোন নেওয়াই মূল উদ্দেশ্য ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় এক বা একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকলে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কয়েকজন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তদন্ত চলমান থাকায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

এদিকে বিভিন্ন সূত্রে তুহিন নামে এক যুবকের সম্পৃক্ততার সন্দেহের কথা বলা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নিশ্চিত করেনি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তাকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।

এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতীম। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, মায়ের আইফোন সঙ্গে নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল সে। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি।

পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় ওই দিনই সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।

নিখোঁজের পর পুলিশ অপ্রতীমের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করার পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে।

শনিবার দুপুরে কোটবাড়ির দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতীম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।

মরদেহ প্রথম দেখতে পাওয়া আবদুল কাদের জিলানীর ভাষ্য, তিনি ও তার ছেলে বাঁশ কাটতে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। তার ছেলে দূর থেকে কাউকে পড়ে থাকতে দেখে বিষয়টি জানায়। পরে কাছে গিয়ে তারা মাথায় আঘাতের চিহ্নসহ অপ্রতীমকে পড়ে থাকতে দেখেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম জানান, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার তাগিদ দেন।

ট্যাগ : কুমিল্লা হত্যাকাণ্ড

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ, মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্রুত হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক দল তাকে খুঁজে বের করতে কাজ করছিল। তদন্তে এরই মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া গেছে।

হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা আইফোন নেওয়াই মূল উদ্দেশ্য ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় এক বা একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকলে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কয়েকজন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তদন্ত চলমান থাকায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

এদিকে বিভিন্ন সূত্রে তুহিন নামে এক যুবকের সম্পৃক্ততার সন্দেহের কথা বলা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নিশ্চিত করেনি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তাকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।

এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতীম। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, মায়ের আইফোন সঙ্গে নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল সে। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি।

পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় ওই দিনই সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।

নিখোঁজের পর পুলিশ অপ্রতীমের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করার পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে।

শনিবার দুপুরে কোটবাড়ির দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতীম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।

মরদেহ প্রথম দেখতে পাওয়া আবদুল কাদের জিলানীর ভাষ্য, তিনি ও তার ছেলে বাঁশ কাটতে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। তার ছেলে দূর থেকে কাউকে পড়ে থাকতে দেখে বিষয়টি জানায়। পরে কাছে গিয়ে তারা মাথায় আঘাতের চিহ্নসহ অপ্রতীমকে পড়ে থাকতে দেখেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম জানান, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার তাগিদ দেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ