ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এআইয়ের ভুলে চীনা জাহাজে হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল মার্কিন বাহিনী

এআইয়ের ভুলে চীনা জাহাজে হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল মার্কিন বাহিনী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এআইয়ের সহায়তায় তৈরি একটি ত্রুটিপূর্ণ গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত একটি চীনা জাহাজে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। অভিযান শুরুর ঠিক আগে তথ্য যাচাই করতে গিয়ে ভুলটি ধরা পড়ে।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের বসন্তে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চলাকালে ঘটনাটি ঘটে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়া একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, চীনা জাহাজটিতে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপাদান পরিবহন করা হচ্ছে।

ওই তথ্যের ভিত্তিতে জাহাজটি আটকের পরিকল্পনা শুরু হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, সশস্ত্র মার্কিন সেনাদের জাহাজে ওঠানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। অভিযানের অংশ হিসেবে সামরিক বিমানও আকাশে অবস্থান করছিল।

তবে চূড়ান্ত পদক্ষেপের আগে কয়েকজন অভিজ্ঞ বিশ্লেষক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের উৎস ও মূল তথ্য পুনরায় পরীক্ষা করেন। তখন দেখা যায়, জাহাজের পণ্য সম্পর্কে প্রতিবেদনে দেওয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে মূল গোয়েন্দা তথ্যের সামঞ্জস্য নেই।

পরবর্তী যাচাইয়ে জানা যায়, প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়ায় একটি এআই চ্যাটবট ব্যবহার করা হয়েছিল। সেটি জাহাজে থাকা পণ্যের পরিচয় ভুলভাবে বিশ্লেষণ করে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উপস্থাপন করেছিল। পরে সেই ফলাফলের ভিত্তিতেই প্রচলিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কাঠামোয় নথিটি তৈরি করা হয়।

ঘটনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, প্রতিবেদনটির মূল সিদ্ধান্ত বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে গুরুতর সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও ছিল।

জাহাজটিতে আসলে কী ধরনের পণ্য ছিল, তা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে এআই যে উপাদানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে শনাক্ত করেছিল, সেটি বাস্তবে তেমন কিছু ছিল না বলে জানানো হয়েছে।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের একজন বিশ্লেষক জাহাজটির ম্যানিফেস্ট-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করছিলেন। হাওয়াইভিত্তিক ইউএস স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড প্যাসিফিক থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে উন্মুক্ত উৎস এবং সরকারি ব্যবস্থায় থাকা সিগন্যাল গোয়েন্দা তথ্য মিলিয়ে একটি এআই চ্যাটবটের সহায়তা নেওয়া হয়।

এআই ব্যবস্থা এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে জাহাজের পণ্য সম্পর্কে ভুল সিদ্ধান্ত দেয়। পরে একই প্রযুক্তির সহায়তায় ফলাফলটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের আকারে সাজানো হয় এবং তা সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক বাণিজ্যিক কোনো এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেছিলেন, নাকি মার্কিন সরকারের নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা ব্যবহার করেছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

চীনা জাহাজটিতে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি যখন অনেক দূর এগিয়ে যায়, তখন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশ্লেষকেরা মূল তথ্য আবার যাচাই করেন। তাদের পর্যালোচনায় এআইয়ের তৈরি সিদ্ধান্তটি ভিত্তিহীন বলে ধরা পড়ে।

এ ধরনের ভুল তথ্য তৈরির ঘটনাকে এআই প্রযুক্তিতে সাধারণত ‘হ্যালুসিনেশন’ বলা হয়। অর্থাৎ পর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য ভিত্তি ছাড়াই এআই এমন তথ্য বা সিদ্ধান্ত তৈরি করে, যা দেখতে বিশ্বাসযোগ্য মনে হলেও বাস্তবে ভুল হতে পারে।

ভুলটি শনাক্ত হওয়ার পর চীনা জাহাজে পরিকল্পিত অভিযান বাতিল করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যবস্থায় গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্তকরণ, রসদ ব্যবস্থাপনা, বাজেট পরিকল্পনা এবং সামরিক সম্পদ মোতায়েনসহ বিভিন্ন কাজে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়াতে এআই প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ চলতি বছরের জানুয়ারিতে ‘আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাকসেলারেশন স্ট্র্যাটেজি’ প্রকাশ করেন। এতে সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের পরীক্ষামূলক ব্যবহার বাড়ানো এবং আরও বেশি সামরিক ও বেসামরিক কর্মীর কাছে প্রযুক্তিটি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

তবে সিএনএনের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একই ধরনের যাচাই ও নিরাপত্তা কাঠামো সর্বত্র কার্যকর নয়। বিভিন্ন ইউনিট নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ভিন্ন প্রযুক্তি ও পদ্ধতি ব্যবহার করছে।

সামরিক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে এআইয়ের ব্যবহারকে বিশেষভাবে সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, গোয়েন্দা বিশ্লেষণে ভুল হলে তার প্রভাব সরাসরি সামরিক অভিযানে পড়তে পারে।

এআইয়ের সিদ্ধান্তের ওপর মানুষের নজরদারি থাকলেও কোন পর্যায়ে এবং কীভাবে সেই তথ্য যাচাই করা হবে, তা নিয়ে আরও স্পষ্ট ও কার্যকর কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকদের আরেকটি উদ্বেগ হলো, এআই খুব দ্রুত বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়া করতে পারায় একই গতিতে ভুল সিদ্ধান্তও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে এআইয়ের তৈরি ফলাফল যথেষ্ট যাচাই না করে গ্রহণ করলে প্রযুক্তির গতি সামরিক সিদ্ধান্তে নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

চীনা জাহাজের ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত কোনো সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়নি। তবে অভিযান শুরুর একেবারে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভুল তথ্য শনাক্ত হওয়ার ঘটনা সামরিক সিদ্ধান্তে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবিক যাচাই, একাধিক উৎস থেকে তথ্য নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

সূত্র: সিএনএন

ট্যাগ : যুক্তরাষ্ট্র চীন এআই

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এআইয়ের ভুলে চীনা জাহাজে হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল মার্কিন বাহিনী

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এআইয়ের সহায়তায় তৈরি একটি ত্রুটিপূর্ণ গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত একটি চীনা জাহাজে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। অভিযান শুরুর ঠিক আগে তথ্য যাচাই করতে গিয়ে ভুলটি ধরা পড়ে।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের বসন্তে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চলাকালে ঘটনাটি ঘটে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়া একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, চীনা জাহাজটিতে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপাদান পরিবহন করা হচ্ছে।

ওই তথ্যের ভিত্তিতে জাহাজটি আটকের পরিকল্পনা শুরু হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, সশস্ত্র মার্কিন সেনাদের জাহাজে ওঠানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। অভিযানের অংশ হিসেবে সামরিক বিমানও আকাশে অবস্থান করছিল।

তবে চূড়ান্ত পদক্ষেপের আগে কয়েকজন অভিজ্ঞ বিশ্লেষক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের উৎস ও মূল তথ্য পুনরায় পরীক্ষা করেন। তখন দেখা যায়, জাহাজের পণ্য সম্পর্কে প্রতিবেদনে দেওয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে মূল গোয়েন্দা তথ্যের সামঞ্জস্য নেই।

পরবর্তী যাচাইয়ে জানা যায়, প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়ায় একটি এআই চ্যাটবট ব্যবহার করা হয়েছিল। সেটি জাহাজে থাকা পণ্যের পরিচয় ভুলভাবে বিশ্লেষণ করে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উপস্থাপন করেছিল। পরে সেই ফলাফলের ভিত্তিতেই প্রচলিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কাঠামোয় নথিটি তৈরি করা হয়।

ঘটনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, প্রতিবেদনটির মূল সিদ্ধান্ত বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে গুরুতর সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও ছিল।

জাহাজটিতে আসলে কী ধরনের পণ্য ছিল, তা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে এআই যে উপাদানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে শনাক্ত করেছিল, সেটি বাস্তবে তেমন কিছু ছিল না বলে জানানো হয়েছে।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের একজন বিশ্লেষক জাহাজটির ম্যানিফেস্ট-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করছিলেন। হাওয়াইভিত্তিক ইউএস স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড প্যাসিফিক থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে উন্মুক্ত উৎস এবং সরকারি ব্যবস্থায় থাকা সিগন্যাল গোয়েন্দা তথ্য মিলিয়ে একটি এআই চ্যাটবটের সহায়তা নেওয়া হয়।

এআই ব্যবস্থা এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে জাহাজের পণ্য সম্পর্কে ভুল সিদ্ধান্ত দেয়। পরে একই প্রযুক্তির সহায়তায় ফলাফলটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের আকারে সাজানো হয় এবং তা সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক বাণিজ্যিক কোনো এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেছিলেন, নাকি মার্কিন সরকারের নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা ব্যবহার করেছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

চীনা জাহাজটিতে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি যখন অনেক দূর এগিয়ে যায়, তখন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশ্লেষকেরা মূল তথ্য আবার যাচাই করেন। তাদের পর্যালোচনায় এআইয়ের তৈরি সিদ্ধান্তটি ভিত্তিহীন বলে ধরা পড়ে।

এ ধরনের ভুল তথ্য তৈরির ঘটনাকে এআই প্রযুক্তিতে সাধারণত ‘হ্যালুসিনেশন’ বলা হয়। অর্থাৎ পর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য ভিত্তি ছাড়াই এআই এমন তথ্য বা সিদ্ধান্ত তৈরি করে, যা দেখতে বিশ্বাসযোগ্য মনে হলেও বাস্তবে ভুল হতে পারে।

ভুলটি শনাক্ত হওয়ার পর চীনা জাহাজে পরিকল্পিত অভিযান বাতিল করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যবস্থায় গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্তকরণ, রসদ ব্যবস্থাপনা, বাজেট পরিকল্পনা এবং সামরিক সম্পদ মোতায়েনসহ বিভিন্ন কাজে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়াতে এআই প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ চলতি বছরের জানুয়ারিতে ‘আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাকসেলারেশন স্ট্র্যাটেজি’ প্রকাশ করেন। এতে সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের পরীক্ষামূলক ব্যবহার বাড়ানো এবং আরও বেশি সামরিক ও বেসামরিক কর্মীর কাছে প্রযুক্তিটি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

তবে সিএনএনের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একই ধরনের যাচাই ও নিরাপত্তা কাঠামো সর্বত্র কার্যকর নয়। বিভিন্ন ইউনিট নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ভিন্ন প্রযুক্তি ও পদ্ধতি ব্যবহার করছে।

সামরিক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে এআইয়ের ব্যবহারকে বিশেষভাবে সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, গোয়েন্দা বিশ্লেষণে ভুল হলে তার প্রভাব সরাসরি সামরিক অভিযানে পড়তে পারে।

এআইয়ের সিদ্ধান্তের ওপর মানুষের নজরদারি থাকলেও কোন পর্যায়ে এবং কীভাবে সেই তথ্য যাচাই করা হবে, তা নিয়ে আরও স্পষ্ট ও কার্যকর কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকদের আরেকটি উদ্বেগ হলো, এআই খুব দ্রুত বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়া করতে পারায় একই গতিতে ভুল সিদ্ধান্তও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে এআইয়ের তৈরি ফলাফল যথেষ্ট যাচাই না করে গ্রহণ করলে প্রযুক্তির গতি সামরিক সিদ্ধান্তে নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

চীনা জাহাজের ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত কোনো সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়নি। তবে অভিযান শুরুর একেবারে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভুল তথ্য শনাক্ত হওয়ার ঘটনা সামরিক সিদ্ধান্তে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবিক যাচাই, একাধিক উৎস থেকে তথ্য নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

সূত্র: সিএনএন


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ