বিশ্ববাজারে বড় ধরনের উত্থানের মধ্য দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বর্ণের দাম। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুটির দাম একপর্যায়ে ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর আগের সেশনে স্বর্ণের দাম প্রায় ছয় সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১১ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৩৬৪ দশমিক ২৯ ডলারে ওঠে। একই সময়ে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দর ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০৪ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়ায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম কমে আসা এবং মার্কিন ডলারের সাম্প্রতিক দুর্বলতা স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বগতিতে ভূমিকা রেখেছে। ডলারের দর কমলে অন্যান্য মুদ্রায় স্বর্ণ কেনার ব্যয় তুলনামূলকভাবে কমে যায়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে ধাতুটির চাহিদায় প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে তেলের দাম কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে উদ্বেগও কিছুটা কমেছে।
এদিকে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ সুদহার সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির সম্ভাব্য গতিপথ পর্যালোচনা করছেন। ফেড সুদহার বাড়ানোর পরও বাজারে স্বর্ণের দামে উত্থান দেখা দিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের দীর্ঘমেয়াদি ফলন কমে আসাও স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সহায়তা করেছে।
দেশের বাজারেও সম্প্রতি কয়েক দফা পরিবর্তনের পর স্বর্ণের দাম আবার বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা।
এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা। এক ভরি স্বর্ণের ওজন ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে। ফলে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দেশের বাজারে নির্ধারিত ওই দামেই স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স