ঢাকা    বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ ৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দুর্ঘটনায় ১২ বছর বয়সী ঈশার মৃত্যু, পরিবার শোকস্তব্ধ

দুর্ঘটনায় ১২ বছর বয়সী ঈশার মৃত্যু, পরিবার শোকস্তব্ধ
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের নাথপাড়ায় বাস চাপায় ১২ বছর বয়সী ঈশা রানী দাশের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সময় তিনি ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনা ঘটেছে যখন তিনি বিদ্যালয়ের টিফিন বিরতিতে শিঙাড়া কিনতে দোকানের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। চট্টগ্রামমুখী একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়, গুরুতর আহত অবস্থায় ঈশাকে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে নগরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সন্ধ্যায় তার মৃত্যু ঘটে।

নিহত ঈশার বাবা সুনীল কান্তি দাশ (৫২) গত বছর স্ট্রোকের কারণে ওমান থেকে দেশে ফেরেন। স্ট্রোকের পর তার একটি পা অস্থায়ীভাবে অসাড় হয়ে গিয়েছে, ফলে চলাফেরা করার সামর্থ্য নেই। ঈশাকে স্কুলে যেতো সময় তিনি বাড়ির বারান্দায় বসে বিদায় জানাতেন এবং মেয়ের ফেরার অপেক্ষায় থাকতেন।

ঈশার মা উষা রানী দাশ জানান, সকালে ঈশা টিফিন খেয়ে বিদ্যালয়ের জন্য বিদায় নিয়েছিল, তবে দুপুরের বিরতিতে শিঙাড়া কিনতে যাওয়া পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়। তিনি দ্রুত মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যান, আশা করেছিলেন ঈশা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে, কিন্তু মেয়েটি আর ফেরেনি।

ঈশা ও তার বড় বোন আদিত্যা রানী দাশ একই বিদ্যালয়ের ছাত্রী, দুজন একসঙ্গে বিদ্যালয়ে যেতো এবং ফিরতো। ঈশার পড়াশোনা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ উচ্চবিদ্যালয়ে চলছিল।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্কুল শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং বাসটিকে ভাঙচুর করেন।

নিহতের চাচা ও স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কান্তি দাশ জানান, সুনীল কান্তি দাশের পরিবার দেশে ফেরার পর অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিলেন, অথচ মেয়েদের পড়াশোনার কোন ব্যাঘাত হয়নি। তারা মেয়েকে ভালোভাবে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন।

ট্যাগ : চট্টগ্রাম ঈশা রানী দাশের মৃত্যু

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দুর্ঘটনায় ১২ বছর বয়সী ঈশার মৃত্যু, পরিবার শোকস্তব্ধ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের নাথপাড়ায় বাস চাপায় ১২ বছর বয়সী ঈশা রানী দাশের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সময় তিনি ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনা ঘটেছে যখন তিনি বিদ্যালয়ের টিফিন বিরতিতে শিঙাড়া কিনতে দোকানের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। চট্টগ্রামমুখী একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়, গুরুতর আহত অবস্থায় ঈশাকে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে নগরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সন্ধ্যায় তার মৃত্যু ঘটে।

নিহত ঈশার বাবা সুনীল কান্তি দাশ (৫২) গত বছর স্ট্রোকের কারণে ওমান থেকে দেশে ফেরেন। স্ট্রোকের পর তার একটি পা অস্থায়ীভাবে অসাড় হয়ে গিয়েছে, ফলে চলাফেরা করার সামর্থ্য নেই। ঈশাকে স্কুলে যেতো সময় তিনি বাড়ির বারান্দায় বসে বিদায় জানাতেন এবং মেয়ের ফেরার অপেক্ষায় থাকতেন।

ঈশার মা উষা রানী দাশ জানান, সকালে ঈশা টিফিন খেয়ে বিদ্যালয়ের জন্য বিদায় নিয়েছিল, তবে দুপুরের বিরতিতে শিঙাড়া কিনতে যাওয়া পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়। তিনি দ্রুত মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যান, আশা করেছিলেন ঈশা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে, কিন্তু মেয়েটি আর ফেরেনি।

ঈশা ও তার বড় বোন আদিত্যা রানী দাশ একই বিদ্যালয়ের ছাত্রী, দুজন একসঙ্গে বিদ্যালয়ে যেতো এবং ফিরতো। ঈশার পড়াশোনা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ উচ্চবিদ্যালয়ে চলছিল।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্কুল শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং বাসটিকে ভাঙচুর করেন।

নিহতের চাচা ও স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কান্তি দাশ জানান, সুনীল কান্তি দাশের পরিবার দেশে ফেরার পর অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিলেন, অথচ মেয়েদের পড়াশোনার কোন ব্যাঘাত হয়নি। তারা মেয়েকে ভালোভাবে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ