ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বনানীতে ফ্ল্যাটের চেয়ে কবরের দাম বেশি

বনানীতে ফ্ল্যাটের চেয়ে কবরের দাম বেশি
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

রাজধানীর বনানীতে কবরের জায়গার সংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একটি কবর ২৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ করতেও গুনতে হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। অথচ একই এলাকায় প্রায় ২ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন পরিচালিত বনানী কবরস্থানে বর্তমানে ৯ হাজারের বেশি কবর রয়েছে। নতুন জায়গার সংকট থাকায় পুরোনো কবর পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে।

কবরস্থান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কবর পুনর্ব্যবহার করে সেখানে নতুন করে দাফনের নির্ধারিত ফি ৫০ হাজার ৫০০ টাকা। আর কবর ১৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ করতে খরচ প্রায় ৩ কোটি এবং ২৫ বছরের জন্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন কবরের জায়গার খোঁজে বনানী কবরস্থানে আসেন। অনেকে বড় অঙ্কের অর্থ দিতে প্রস্তুত থাকলেও জায়গার অভাবে তাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না।

কবরস্থানটিতে জায়গার সংকট এতটাই তীব্র যে, সাধারণত পুরোনো কবরের ওপর দুই বছর পর নতুন করে দাফন করা হয়। কোনো কোনো স্থায়ী কবরে সাতজন পর্যন্ত মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি কয়েক বছর ধরে নিজের জন্য কবরের জায়গা খুঁজছেন। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা দিতেও তিনি প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু সাড়ে তিন হাত জায়গাও পাওয়া যাচ্ছে না।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, বনানীর এই পরিস্থিতি শুধু একটি কবরস্থানের সংকট নয়, বরং পুরো ঢাকার দীর্ঘমেয়াদি কবরস্থান ব্যবস্থাপনার ঘাটতির প্রতিফলন। দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কবরস্থানের জমি বাড়েনি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদের মতে, কবরস্থানও গুরুত্বপূর্ণ নগরসেবার অংশ। কিন্তু ঢাকায় এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে।

রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানেও একই ধরনের সংকট রয়েছে। প্রায় ৩২ একর জায়গার এই কবরস্থানে প্রায় ৩০ হাজার কবর রয়েছে। সেখানে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জনকে দাফন করা হয়। সাধারণত একটি মরদেহ প্রায় ১৮ মাস কবরে রাখার পর প্রয়োজন অনুযায়ী কবরটি পুনর্ব্যবহার করা হয়।

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলামের মতে, বেসরকারি ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা অনুযায়ী প্রতি ৫০ হাজার মানুষের জন্য একটি এক একরের কবরস্থান প্রয়োজন। ঢাকার জনসংখ্যা সাড়ে ৩ কোটি হলে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৭০০ একর কবরস্থান। জনসংখ্যা ২ কোটি ধরলেও প্রয়োজন হবে প্রায় ৪০০ একর জমি।

বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপে রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ছোট ছোট কবরস্থান নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে পর্যাপ্ত জমি না থাকায় ঢাকার কবরস্থান সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

ট্যাগ : বনানী কবরস্থান কবরের জায়গা

বাংলা ভিউজ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বনানীতে ফ্ল্যাটের চেয়ে কবরের দাম বেশি

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর বনানীতে কবরের জায়গার সংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একটি কবর ২৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ করতেও গুনতে হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। অথচ একই এলাকায় প্রায় ২ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন পরিচালিত বনানী কবরস্থানে বর্তমানে ৯ হাজারের বেশি কবর রয়েছে। নতুন জায়গার সংকট থাকায় পুরোনো কবর পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে।

কবরস্থান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কবর পুনর্ব্যবহার করে সেখানে নতুন করে দাফনের নির্ধারিত ফি ৫০ হাজার ৫০০ টাকা। আর কবর ১৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ করতে খরচ প্রায় ৩ কোটি এবং ২৫ বছরের জন্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন কবরের জায়গার খোঁজে বনানী কবরস্থানে আসেন। অনেকে বড় অঙ্কের অর্থ দিতে প্রস্তুত থাকলেও জায়গার অভাবে তাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না।

কবরস্থানটিতে জায়গার সংকট এতটাই তীব্র যে, সাধারণত পুরোনো কবরের ওপর দুই বছর পর নতুন করে দাফন করা হয়। কোনো কোনো স্থায়ী কবরে সাতজন পর্যন্ত মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি কয়েক বছর ধরে নিজের জন্য কবরের জায়গা খুঁজছেন। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা দিতেও তিনি প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু সাড়ে তিন হাত জায়গাও পাওয়া যাচ্ছে না।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, বনানীর এই পরিস্থিতি শুধু একটি কবরস্থানের সংকট নয়, বরং পুরো ঢাকার দীর্ঘমেয়াদি কবরস্থান ব্যবস্থাপনার ঘাটতির প্রতিফলন। দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কবরস্থানের জমি বাড়েনি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদের মতে, কবরস্থানও গুরুত্বপূর্ণ নগরসেবার অংশ। কিন্তু ঢাকায় এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে।

রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানেও একই ধরনের সংকট রয়েছে। প্রায় ৩২ একর জায়গার এই কবরস্থানে প্রায় ৩০ হাজার কবর রয়েছে। সেখানে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জনকে দাফন করা হয়। সাধারণত একটি মরদেহ প্রায় ১৮ মাস কবরে রাখার পর প্রয়োজন অনুযায়ী কবরটি পুনর্ব্যবহার করা হয়।

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলামের মতে, বেসরকারি ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা অনুযায়ী প্রতি ৫০ হাজার মানুষের জন্য একটি এক একরের কবরস্থান প্রয়োজন। ঢাকার জনসংখ্যা সাড়ে ৩ কোটি হলে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৭০০ একর কবরস্থান। জনসংখ্যা ২ কোটি ধরলেও প্রয়োজন হবে প্রায় ৪০০ একর জমি।

বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপে রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ছোট ছোট কবরস্থান নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে পর্যাপ্ত জমি না থাকায় ঢাকার কবরস্থান সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ