চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শনিবার ভারতে পৌঁছেছেন ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে। প্রায় সাত বছর পর এটি তার প্রথম ভারত সফর। একই সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ঘিরে বিশেষ নজর রয়েছে।
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। ওই সংঘর্ষে অন্তত ২০ ভারতীয় ও চার চীনা সেনা নিহত হন। এরপর সীমান্তে সেনা মোতায়েন, অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
তবে ২০২৪ সালে সীমান্তে সেনা প্রত্যাহার ও টহল ব্যবস্থা নিয়ে সমঝোতার পর থেকে দুই দেশ ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু এবং ভিসা ব্যবস্থায় কিছুটা শিথিলতাও সেই প্রক্রিয়ার অংশ।
শির এবারের সফরে ব্রিকস সম্মেলনই আনুষ্ঠানিক কারণ হলেও, ভারত-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। দুই নেতা সীমান্ত পরিস্থিতি, বাণিজ্য ঘাটতি, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।
চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে দেখা হলেও সীমান্ত বিরোধ এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। অরুণাচল প্রদেশসহ বিভিন্ন সীমান্ত ইস্যু, চীনের পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং ভারত মহাসাগরে দুই দেশের প্রতিযোগিতা সম্পর্কের বড় বাধা হয়ে আছে।
অন্যদিকে বৈশ্বিক পরিস্থিতিও দুই দেশকে কিছু ক্ষেত্রে কাছাকাছি আনছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও বাণিজ্যিক চাপ, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারত ও চীন উভয়েই নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বিকল্প অংশীদারত্ব জোরদার করতে চাইছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শি-মোদি বৈঠক হলেও এক বৈঠকেই দুই দেশের দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস দূর হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং সীমান্তে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে বাড়ানোর মধ্য দিয়েই সম্পর্কের বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
এবারের ব্রিকস সম্মেলন তাই শুধু বৈশ্বিক দক্ষিণের অর্থনৈতিক সহযোগিতার মঞ্চ নয়, ভারত-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সম্ভাবনাও তৈরি করেছে। শি ও মোদি সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পারেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।