একবার, দুবার নয়, ৫৭ বার তৈরি, পরীক্ষা ও পরিবর্তনের পর সফলতার মুখ দেখেছে নারীদের নিরাপত্তায় তৈরি প্রযুক্তিনির্ভর অ্যাপ ‘অভয়া’। দীর্ঘ পরিশ্রমের পর জাতীয় রোবোটিকস উৎসব ‘রোবোফিউশন ১.০’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘টিম অভয়া’।
ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশের এডুকেশনাল টেকনোলজি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের তৈরি এই অ্যাপটি ৬৫টির বেশি দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
দলটির সদস্যরা হলেন ওয়ালিউর রহমান (দলনেতা), শুভ কুমার আচার্য ও পুনম পাল।
‘অভয়া’র যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি সাধারণ ল্যাব প্রকল্প হিসেবে। কাজ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারেন, জরুরি পরিস্থিতিতে নারীদের দ্রুত সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো সম্ভব। এরপর সেই ভাবনাকে বাস্তব সমাধানে রূপ দিতে শুরু হয় দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
অ্যাপটি চূড়ান্ত পর্যায়ে নিতে প্রায় ৫৭ বার তৈরি, পরীক্ষা, পরিবর্তন ও পুনর্গঠন করতে হয়েছে। কখনো ফিচার কাজ করেনি, কখনো প্রযুক্তিগত সমস্যায় পড়তে হয়েছে, আবার কখনো পুরো পরিকল্পনাই নতুন করে সাজাতে হয়েছে। তবে প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে গেছেন শিক্ষার্থীরা।
দলের সদস্য পুনম পাল বলেন, ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়, বরং আরও ভালোভাবে শুরু করার সুযোগ। অসংখ্যবার টেস্টিং, ডিবাগিং ও উন্নয়নের মাধ্যমে তারা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, দলগত কাজ, সমস্যা সমাধান এবং চাপ মোকাবিলার অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছেন।
এই প্রকল্পের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন দলের সুপারভাইজার ও শিক্ষক আদিত্য রাজবংশী। তাঁর নিয়মিত দিকনির্দেশনা ও উৎসাহে একটি একাডেমিক প্রকল্প ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অনুষ্ঠিত জাতীয় রোবোটিকস উৎসব ‘রোবোফিউশন ১.০’-এ ‘অভয়া’ তাদের উদ্ভাবনী ধারণা, সামাজিক গুরুত্ব ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তুলে ধরে। বিচারকদের মূল্যায়নে সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় দলটি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি তরুণদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।