দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার মান ও আন্তর্জাতিক সক্ষমতা বাড়াতে পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। একই সঙ্গে গবেষণা খাতে অর্থায়ন বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কার্যকর ও টেকসই গবেষণা পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ইউজিসির ১৭৯তম পূর্ণ কমিশন সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব পরিকল্পনার কথা জানান কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, কমিশনের নিজস্ব পিএইচডি স্কলারশিপের সংখ্যা ৭৫ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে এই সংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে পিএইচডি করার সুযোগ ১০টি থেকে বাড়িয়ে ৩৫টি করা হয়েছে।
এ ছাড়া পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের সংখ্যাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষণায় বিশেষ অর্থ বরাদ্দের জন্য আগামী অর্থবছরে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউজিসি।
সভায় অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দক্ষ ও মানসম্পন্ন শিক্ষকের ঘাটতি মোকাবিলায় দেশ ও বিদেশে পিএইচডি করার সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। মানসম্মত গবেষণা নিশ্চিত করতে ইউজিসি ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ জন্য গবেষণাবান্ধব ও সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি পিএইচডির সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে গবেষণাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান কার্যক্রম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় ইউজিসি। শুধু গবেষণার সংখ্যা বাড়ানো নয়, গবেষণার মান, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব এবং বাস্তব ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিশ্চিত করাও কমিশনের অন্যতম অগ্রাধিকার।
ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, দক্ষ গবেষক তৈরির পাশাপাশি আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়ন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করা, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং গবেষণার ফলাফল বাস্তবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটি কার্যকর গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
এদিকে কমিশনের সভায় ‘ইউজিসি প্রমোশনাল অ্যান্ড একাডেমিক স্টাফ ডেভেলপমেন্ট গবেষণা প্রকল্প নীতিমালা, ২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন এবং অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ