নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদাধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, দেশটিতে অন্তত ১৬২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত শত শত মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। নিখোঁজদের মধ্যে বহু বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন।
নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের হিসাবে, শুধু নেপাল অংশেই ৪০৩ পর্যটক নিখোঁজ বা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যসহ দুই ডজনের বেশি দেশের নাগরিক নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন।
এদিকে সীমান্তের চীনা অংশ তিব্বতের গিয়িরং কাউন্টিতে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। সেখানে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম।
চীনা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, গিয়িরং এলাকার উজানে ভূমিধসের কারণে একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। সেটি নতুন করে ভেঙে পড়লে দ্বিতীয় দফার ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে পানি ও ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
দুর্যোগের কারণ নিয়ে প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের কথা বলা হলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে হিমবাহের একটি বড় অংশ ধসে বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোত নদীতে নেমে আসার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার সিসমিক তথ্যও ভূমিধস বা বরফ-পাথরের ধসের সঙ্গে মিলছে।
আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুয়া ও ভাটির বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু গ্রাম কার্যত ধুয়ে গেছে। উদ্ধার অভিযানে পাঁচ হাজারের বেশি সদস্য কাজ করছেন এবং হেলিকপ্টারে খাদ্য, আশ্রয় ও জরুরি ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে।
দুর্গতদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র ৫ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ভারত, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা দিচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ