বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ থমাস ডুলির সামনে প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে আসছে ফিফা আসিয়ান কাপ। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ায় শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার থেকে জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই খেলোয়াড়দের একত্র করা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
আসিয়ান কাপের জন্য মঙ্গলবার ২৮ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তবে বিদেশি লিগে খেলা হামজা দেওয়ান চৌধুরী, সামিত সোম, ফাহমিদুল ইসলাম ও তারিক কাজী এই তালিকায় নেই। বাফুফে জানিয়েছে, তারা পরবর্তী সময়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।
এদিকে কয়েকজন ফুটবলারের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সাড়া না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ডুলি। জাতীয় দলের হয়ে খেলতে কাউকে বাধ্য করার পক্ষে নন এই কোচ। তাঁর মতে, দেশের হয়ে খেলার আগ্রহ খেলোয়াড়ের নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়।
এর মধ্যেই স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন গত মৌসুমে মোহামেডানের হয়ে ভালো পারফর্ম করা সৌরভ দেওয়ান। গত জুনে সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের দলেও তিনি ছিলেন না। এবার ডুলির পরিকল্পনায় জায়গা করে নিয়েছেন এই মিডফিল্ডার।
সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচের জন্য ঘোষিত ৩০ সদস্যের দল থেকে এবার মিরাজুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম বাদ পড়েছেন। মিরাজুল নিষেধাজ্ঞার কারণে এবং আল আমিন শাস্তির কারণে দলে নেই। তবে আগের স্কোয়াডের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই এবারও ডুলির পরিকল্পনায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
জাতীয় দলের প্রস্তুতিতে আরেকটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘরোয়া ফুটবলের সূচি। ২১ সেপ্টেম্বর ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডো শুরু হওয়ার আগে ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ফুটবল লিগ এবং ২২ সেপ্টেম্বর ফেডারেশন কাপ শুরুর কথা রয়েছে। ফলে ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ততার মধ্যেই জাতীয় দলের প্রস্তুতি নিতে হবে ডুলিকে।
ফিফা উইন্ডো শুরুর তিন দিন আগে পর্যন্ত ক্লাবগুলো খেলোয়াড় ছাড়তে বাধ্য নয়। এর ফলে ক্যাম্পে পূর্ণ শক্তির দল পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছে। একই সঙ্গে বেশির ভাগ ক্লাব এখনো অনুশীলন শুরু না করায় খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জাতীয় দলের ক্যাম্প বিকেএসপিতে আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও আবাসন সংকটের কারণে সেটি বাতিল করা হয়েছে। পরিবর্তে ঢাকার একটি হোটেলে খেলোয়াড়দের রেখে অনুশীলন করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রথম দিনের অনুশীলন নিয়েও ভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে ডুলির। শুরুতেই পুরোপুরি রুদ্ধদ্বার অনুশীলনের পরিবর্তে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি এবং মাঠের পরিবেশের সঙ্গে খেলোয়াড়দের মানিয়ে নেওয়াকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
কোচিং স্টাফের সদস্যরাও এখনো পুরোপুরি একত্রিত হননি। দুই সহকারী কোচের একজন ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশি একজন সহকারী কোচ, অতিরিক্ত একজন ফিজিওথেরাপিস্ট এবং একজন ফিটনেস কোচ দলের সঙ্গে কাজ করবেন।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হবে ফিফা আসিয়ান কাপ। বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। নভেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে এই প্রতিযোগিতাকে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ।
স্বল্প সময়ের মধ্যে সেরা খেলোয়াড়দের একত্র করে নিজের পরিকল্পনায় দলকে প্রস্তুত করাই এখন ডুলির প্রধান লক্ষ্য। মাঠের প্রতিপক্ষের পাশাপাশি সময়, ক্লাব সূচি এবং খেলোয়াড়দের উপস্থিতির চ্যালেঞ্জও সামলাতে হবে নতুন কোচকে।
মন্তব্যসমূহ