ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ভারতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীরা মাথায় স্কার্ফ পড়তে পারবে না

হাইকোর্টের রায়

ভারতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীরা মাথায় স্কার্ফ পড়তে পারবে না
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

নিজের ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাক বা ইউনিফর্ম পরিবর্তনের অধিকার দাবি করতে পারে না বলে রায় দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের পাশাপাশি মাথায় হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে এক ছাত্রীর করা আবেদন খারিজ করেছেন আদালত।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারপতি জে জে মুনির ও বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত ২১ আগস্ট এ রায় দেন।

আবেদনকারী শিক্ষার্থী একটি বেসরকারি স্কুলে দশম শ্রেণি শেষ করে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অপেক্ষায় রয়েছে। মায়ের মাধ্যমে করা আবেদনে সে স্কুলের নির্ধারিত পোশাকের সঙ্গে অতিরিক্তভাবে মাথায় হিজাব বা স্কার্ফ পরার অনুমতি চায়।

আবেদনে দাবি করা হয়, মাথায় স্কার্ফ পরা ইসলাম ধর্মের একটি প্রয়োজনীয় ও অবিচ্ছেদ্য অনুশীলন। শিক্ষার্থী আরও জানায়, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই সে ওই স্কুলে মাথায় স্কার্ফ পরে আসছে।

তবে আদালত স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের ছবি পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে বলেন, আবেদনকারী ছাড়া অন্য কোনো ছাত্রীকে মাথায় স্কার্ফ পরতে দেখা যায়নি। এমনকি আবেদনকারীর একই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অন্য ছাত্রীদেরও স্কার্ফ পরতে দেখা যায়নি।

হিজাব বা মাথায় স্কার্ফ পরাকে ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে আবেদনকারীর উপস্থাপিত যুক্তিও গ্রহণ করেননি আদালত। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এর আগে বিভিন্ন হাইকোর্টে বিষয়টি উঠলে মাথায় স্কার্ফ পরাকে এমন অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, যা অনুসরণ না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাসই বিপন্ন হয়ে পড়বে।

আদালত আরও বলেন, একটি বেসরকারি ও সরকারি অনুদানবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজ ক্যাম্পাসে অভিন্ন পোশাকবিধি কার্যকর করার অধিকার রয়েছে। তবে সেই নিয়ম সব শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সমান ও বৈষম্যহীনভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

রায়ে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাকবিধি যদি শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভিন্নতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থী ব্যক্তিগতভাবে সেই পোশাকের সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু যুক্ত করার অধিকার দাবি করতে পারে না।

আদালতের মতে, ব্যক্তিবিশেষকে এ ধরনের ছাড় দেওয়া হলে অভিন্ন পোশাকের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষমতাও ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত এবং সব শিক্ষার্থীর জন্য একই পোশাকবিধি রয়েছে। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা সেখানে পড়াশোনা করে। তাই কোনো একজন শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে ছাড় দেওয়া হলে অভিন্ন পোশাক ও শৃঙ্খলার নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তাদের যুক্তি।

শুনানিতে উত্তর প্রদেশ সরকার ও কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডও শিক্ষার্থীর আবেদনের বিরোধিতা করে। সব পক্ষের বক্তব্য বিবেচনার পর এলাহাবাদ হাইকোর্ট আবেদনটি খারিজ করে দেন।

সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগ : এলাহাবাদ হাইকোর্ট হিজাব স্কুল ইউনিফর্ম ড্রেসকোড

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


ভারতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীরা মাথায় স্কার্ফ পড়তে পারবে না

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নিজের ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাক বা ইউনিফর্ম পরিবর্তনের অধিকার দাবি করতে পারে না বলে রায় দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের পাশাপাশি মাথায় হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে এক ছাত্রীর করা আবেদন খারিজ করেছেন আদালত।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারপতি জে জে মুনির ও বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত ২১ আগস্ট এ রায় দেন।

আবেদনকারী শিক্ষার্থী একটি বেসরকারি স্কুলে দশম শ্রেণি শেষ করে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অপেক্ষায় রয়েছে। মায়ের মাধ্যমে করা আবেদনে সে স্কুলের নির্ধারিত পোশাকের সঙ্গে অতিরিক্তভাবে মাথায় হিজাব বা স্কার্ফ পরার অনুমতি চায়।

আবেদনে দাবি করা হয়, মাথায় স্কার্ফ পরা ইসলাম ধর্মের একটি প্রয়োজনীয় ও অবিচ্ছেদ্য অনুশীলন। শিক্ষার্থী আরও জানায়, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই সে ওই স্কুলে মাথায় স্কার্ফ পরে আসছে।

তবে আদালত স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের ছবি পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে বলেন, আবেদনকারী ছাড়া অন্য কোনো ছাত্রীকে মাথায় স্কার্ফ পরতে দেখা যায়নি। এমনকি আবেদনকারীর একই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অন্য ছাত্রীদেরও স্কার্ফ পরতে দেখা যায়নি।

হিজাব বা মাথায় স্কার্ফ পরাকে ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে আবেদনকারীর উপস্থাপিত যুক্তিও গ্রহণ করেননি আদালত। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এর আগে বিভিন্ন হাইকোর্টে বিষয়টি উঠলে মাথায় স্কার্ফ পরাকে এমন অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, যা অনুসরণ না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাসই বিপন্ন হয়ে পড়বে।

আদালত আরও বলেন, একটি বেসরকারি ও সরকারি অনুদানবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজ ক্যাম্পাসে অভিন্ন পোশাকবিধি কার্যকর করার অধিকার রয়েছে। তবে সেই নিয়ম সব শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সমান ও বৈষম্যহীনভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

রায়ে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাকবিধি যদি শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভিন্নতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থী ব্যক্তিগতভাবে সেই পোশাকের সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু যুক্ত করার অধিকার দাবি করতে পারে না।

আদালতের মতে, ব্যক্তিবিশেষকে এ ধরনের ছাড় দেওয়া হলে অভিন্ন পোশাকের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষমতাও ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত এবং সব শিক্ষার্থীর জন্য একই পোশাকবিধি রয়েছে। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা সেখানে পড়াশোনা করে। তাই কোনো একজন শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে ছাড় দেওয়া হলে অভিন্ন পোশাক ও শৃঙ্খলার নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তাদের যুক্তি।

শুনানিতে উত্তর প্রদেশ সরকার ও কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডও শিক্ষার্থীর আবেদনের বিরোধিতা করে। সব পক্ষের বক্তব্য বিবেচনার পর এলাহাবাদ হাইকোর্ট আবেদনটি খারিজ করে দেন।

সূত্র: এনডিটিভি


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ