ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

চীন থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা

চীন থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

নতুন পররাষ্ট্রনীতি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে চীন থেকে ২৪টি জে-১০সিই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার দিকে অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চলমান উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্রুত অগ্রগতি পাচ্ছে।

সোমবার থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে এই সামরিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সফরকালে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা ছাড়াও অবকাঠামো, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।

সরকারের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানায়, যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তি চলতি বছরের আগস্টের মধ্যেই স্বাক্ষরিত হতে পারে। প্রতিটি যুদ্ধবিমানের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

আলোচনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি চীনের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করেছে। বেইজিং সফরকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল চীনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র কর্মকর্তাদের সঙ্গে চুক্তির বিস্তারিত চূড়ান্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে আরও উন্নীত করে ‘শেয়ার্ড ফিউচার’ বা অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফরকালে প্রায় ১৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও যৌথ ইশতেহার স্বাক্ষরিত হতে পারে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে তিস্তা নদী ব্যারাজ প্রকল্পের যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই এবং মংলা বন্দরের আধুনিকীকরণ নিয়েও আলোচনা হবে। পাশাপাশি মংলা বন্দরে ১১০ একরের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রামে একটি চীনা শিল্প পার্কের অনুমোদন ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে, যেখানে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে সরকার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখছে। চীনা বিনিয়োগ ও উৎপাদন খাত স্থানান্তরের মাধ্যমে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বলে কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সম্প্রসারণ আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে।

সরকারের পররাষ্ট্র নীতিতে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক অবস্থান অনুসরণ করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকার পক্ষ থেকে ব্রিকস জোটে অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে, যেখানে চীন ও রাশিয়ার সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ট্যাগ : বাংলাদেশ চীন

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চীন থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

নতুন পররাষ্ট্রনীতি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে চীন থেকে ২৪টি জে-১০সিই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার দিকে অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চলমান উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্রুত অগ্রগতি পাচ্ছে।

সোমবার থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে এই সামরিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সফরকালে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা ছাড়াও অবকাঠামো, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।

সরকারের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানায়, যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তি চলতি বছরের আগস্টের মধ্যেই স্বাক্ষরিত হতে পারে। প্রতিটি যুদ্ধবিমানের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

আলোচনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি চীনের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করেছে। বেইজিং সফরকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল চীনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র কর্মকর্তাদের সঙ্গে চুক্তির বিস্তারিত চূড়ান্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে আরও উন্নীত করে ‘শেয়ার্ড ফিউচার’ বা অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফরকালে প্রায় ১৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও যৌথ ইশতেহার স্বাক্ষরিত হতে পারে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে তিস্তা নদী ব্যারাজ প্রকল্পের যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই এবং মংলা বন্দরের আধুনিকীকরণ নিয়েও আলোচনা হবে। পাশাপাশি মংলা বন্দরে ১১০ একরের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রামে একটি চীনা শিল্প পার্কের অনুমোদন ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে, যেখানে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে সরকার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখছে। চীনা বিনিয়োগ ও উৎপাদন খাত স্থানান্তরের মাধ্যমে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বলে কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সম্প্রসারণ আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে।

সরকারের পররাষ্ট্র নীতিতে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক অবস্থান অনুসরণ করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকার পক্ষ থেকে ব্রিকস জোটে অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে, যেখানে চীন ও রাশিয়ার সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ