রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য হওয়া উচিত, বিভ্রান্তি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি রাস্তায় বসে ভাঙচুর ও অস্থিরতা তৈরি না করে জনগণের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে চেক বিতরণ এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে জ্বালানি বা বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত। এমন কোনো পরিকল্পনা থাকলে, যা ছয় মাসের মধ্যে সংকট সমাধান করতে সক্ষম, সরকার তা সানন্দে বাস্তবায়ন করবে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার প্রতিটি হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মা ও শিশুরা নিজ নিজ এলাকায় উন্নত চিকিৎসা সুবিধা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে স্বাস্থ্যসেবা এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে যে অনেক মানুষকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে।
দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়েও বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি এ পরিস্থিতির জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আগের সরকার বিদ্যুৎ খাতে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার দায় রেখে গেছে এবং জ্বালানি আমদানির প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করেনি।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের মাটিতে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বাপেক্সকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি এলএনজি জাহাজ দুর্ঘটনার কারণে সাময়িক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে দ্রুত এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সম্প্রতি কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদ কর্মসূচির সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, কিছু দল হারিকেন সামনে রেখে প্রতিবাদ করছে, অথচ তাদের পেছনে বৈদ্যুতিক ফ্যান চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি হঠকারিতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জনগণ এখন আর এসব পছন্দ করে না।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় মানুষ নির্যাতন, গুম ও হত্যার শিকার হলেও তখন এসব নেতাকে রাজপথে দেখা যায়নি।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শুধু শ্রমিকের হাত হিসেবে নয়, দক্ষ কর্মীর হাতে পরিণত করতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে কী পাওয়া গেল, তার চেয়ে দেশ ও মানুষের জন্য কী করা গেল—সেটিই জীবনের বড় সাফল্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বেগম খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম অনুসরণ করে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্তব্যসমূহ