দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকা পেতে যাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা। শনিবার (১৫ আগস্ট) দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে মোট ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় চার বছর ধরে আটকে থাকা বকেয়া পরিশোধের মাধ্যমে এই সংকট কাটানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, মোট বরাদ্দের মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ৪৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২০২২ সাল থেকে আটকে থাকা অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী সর্বোচ্চ ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পাবেন।
এ ছাড়া কল্যাণ ট্রাস্টের ৫৩ হাজার ২০১টি আবেদনের বিপরীতে ৪৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা দেওয়া হবে। অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের সুযোগ রাখা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ম্যানুয়াল ফাইলের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে টাকা ছাড়ের যে প্রক্রিয়া ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে iBAS++ ও EFT ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে। একই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বড় একটি অংশ এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পেতে নানা জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন।
তার দাবি, ২০২২ সালের পর অবসরে যাওয়া ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক পরিবার তাদের প্রাপ্য অর্থ না পেয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। তাদের এই দুর্ভোগ দূর করতেই সরকার দ্রুত অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়মের অবসান ঘটিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কোনো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘমেয়াদে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা দ্রুত পরিশোধের জন্য সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি টেকসই ব্যবস্থা তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে একজন শিক্ষক অবসরে যাওয়ার তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার প্রাপ্য অর্থ পেয়ে যান।
শিক্ষামন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডকে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টকে ৪০০ কোটি টাকার বন্ড দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থই অনেক অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীর জীবনের শেষ বড় আর্থিক অবলম্বন। চিকিৎসা, পারিবারিক প্রয়োজনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে তারা এই অর্থের ওপর নির্ভর করেন। দীর্ঘদিন অর্থ আটকে থাকায় ভোগান্তিতে থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারের এই অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্তব্যসমূহ