ঢাকা    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

লিভারপুলের ৩০ শতাংশের বেশি শেয়ার কিনতে বেজোস-সাভেরিনদের আলোচনা

লিভারপুলের ৩০ শতাংশের বেশি শেয়ার কিনতে বেজোস-সাভেরিনদের আলোচনা
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুলের ৩০ শতাংশের বেশি শেয়ার কেনার বিষয়ে একটি বিনিয়োগকারী জোটের সঙ্গে আলোচনা করছে ক্লাবটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ (এফএসজি)। আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোলে শিগগিরই সম্ভাব্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো।

প্রস্তাবিত বিনিয়োগকারী জোটে রয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো সাভেরিন এবং ব্রিটিশ-ভারতীয় ব্যবসায়ী অমিত ভাটিয়া। জোটটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাটিয়া, যিনি ভারতের শিল্পপতি লক্ষ্মী মিত্তালের জামাতা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন মাস ধরে এফএসজির সঙ্গে বিনিয়োগকারী জোটটির আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, আলোচনা এখনো চলমান এবং অগ্রগতি সন্তোষজনক। স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে সম্ভাব্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগামী সপ্তাহে আসতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্ভাব্য চুক্তিতে লিভারপুলের মূল্যায়ন করা হচ্ছে প্রায় ৪৫০ কোটি পাউন্ড, যা মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের সমান। চুক্তিটি সম্পন্ন হলে ইউরোপীয় ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় বিনিয়োগ হিসেবে এটি বিবেচিত হতে পারে।

তবে নতুন বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হলেই লিভারপুলের খেলোয়াড় কেনার বাজেট ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে—এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা কম। প্রিমিয়ার লিগের স্কোয়াড কস্ট রেশিও সংক্রান্ত নিয়মের কারণে ক্লাবগুলোর ফুটবল ব্যয়ের ওপর নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই বিনিয়োগকারীদের বিপুল সম্পদ থাকলেও সেই অর্থ সরাসরি ইচ্ছেমতো খেলোয়াড় কেনায় ব্যয় করা যাবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগটির বড় সুবিধা হতে পারে ক্লাবের মাঠের বাইরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে। নতুন অংশীদারদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণ, নতুন বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ভবিষ্যৎ মালিকানা কাঠামো নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি সংখ্যালঘু অংশীদারত্বের বিনিয়োগ। তবে জোটের সদস্যদের বিপুল আর্থিক সক্ষমতার কারণে ভবিষ্যতে তারা লিভারপুলে আরও বড় অংশীদারত্ব নিতে আগ্রহী হবেন কি না, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, জেফ বেজোসের সম্পদের পরিমাণ ২৮ হাজার কোটি ডলারের বেশি। এদুয়ার্দো সাভেরিনের সম্পদের পরিমাণও ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী জোটটির আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে কোনো সংশয় নেই।

অমিত ভাটিয়ারও ইংলিশ ফুটবলে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের সঙ্গে প্রায় ১৮ বছর যুক্ত থাকার পর সম্প্রতি তিনি ক্লাবটির বোর্ড থেকে সরে দাঁড়ান এবং নিজের শেয়ার রুবেন জ্ঞানালিঙ্গমের কাছে হস্তান্তর করেন। এবার লিভারপুলে বিনিয়োগকারী জোটের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা ইংলিশ ফুটবলে তার ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

লিভারপুলে বাইরের বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালে এফএসজি ক্লাবটির একটি ছোট অংশের শেয়ার ডাইনেস্টি ইকুইটির কাছে বিক্রি করেছিল। তখন এফএসজি জানিয়েছিল, এ বিনিয়োগের কারণে লিভারপুলের প্রতি তাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

২০১০ সালে টম হিকস ও জর্জ জিলেটের কাছ থেকে প্রায় ৩০ কোটি পাউন্ডে লিভারপুলের মালিকানা নেয় এফএসজি। এরপর ক্লাবটি দুটি প্রিমিয়ার লিগ এবং একটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা জেতে। এ সময় অ্যানফিল্ডের উন্নয়ন এবং কার্কবিতে আধুনিক অনুশীলনকেন্দ্র নির্মাণেও বড় বিনিয়োগ করা হয়।

মাত্র ৩০ কোটি পাউন্ডের ক্রয়মূল্য থেকে লিভারপুলের সম্ভাব্য মূল্যায়ন ৪৫০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছানো এফএসজির জন্য বড় আর্থিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন বিনিয়োগ চুক্তি সেই যাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে পারে।

তবে সম্ভাব্য এই চুক্তিকে এফএসজির লিভারপুল বিক্রির প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইঙ্গিত মিলছে, এটি পূর্ণ মালিকানা হস্তান্তর নয়। বরং এফএসজির নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেই নতুন বিনিয়োগকারীদের সংখ্যালঘু অংশীদার হিসেবে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ট্যাগ : লিভারপুল প্রিমিয়ার লিগ

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


লিভারপুলের ৩০ শতাংশের বেশি শেয়ার কিনতে বেজোস-সাভেরিনদের আলোচনা

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুলের ৩০ শতাংশের বেশি শেয়ার কেনার বিষয়ে একটি বিনিয়োগকারী জোটের সঙ্গে আলোচনা করছে ক্লাবটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ (এফএসজি)। আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোলে শিগগিরই সম্ভাব্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো।

প্রস্তাবিত বিনিয়োগকারী জোটে রয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো সাভেরিন এবং ব্রিটিশ-ভারতীয় ব্যবসায়ী অমিত ভাটিয়া। জোটটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাটিয়া, যিনি ভারতের শিল্পপতি লক্ষ্মী মিত্তালের জামাতা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন মাস ধরে এফএসজির সঙ্গে বিনিয়োগকারী জোটটির আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, আলোচনা এখনো চলমান এবং অগ্রগতি সন্তোষজনক। স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে সম্ভাব্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগামী সপ্তাহে আসতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্ভাব্য চুক্তিতে লিভারপুলের মূল্যায়ন করা হচ্ছে প্রায় ৪৫০ কোটি পাউন্ড, যা মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের সমান। চুক্তিটি সম্পন্ন হলে ইউরোপীয় ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় বিনিয়োগ হিসেবে এটি বিবেচিত হতে পারে।

তবে নতুন বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হলেই লিভারপুলের খেলোয়াড় কেনার বাজেট ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে—এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা কম। প্রিমিয়ার লিগের স্কোয়াড কস্ট রেশিও সংক্রান্ত নিয়মের কারণে ক্লাবগুলোর ফুটবল ব্যয়ের ওপর নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই বিনিয়োগকারীদের বিপুল সম্পদ থাকলেও সেই অর্থ সরাসরি ইচ্ছেমতো খেলোয়াড় কেনায় ব্যয় করা যাবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগটির বড় সুবিধা হতে পারে ক্লাবের মাঠের বাইরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে। নতুন অংশীদারদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণ, নতুন বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ভবিষ্যৎ মালিকানা কাঠামো নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি সংখ্যালঘু অংশীদারত্বের বিনিয়োগ। তবে জোটের সদস্যদের বিপুল আর্থিক সক্ষমতার কারণে ভবিষ্যতে তারা লিভারপুলে আরও বড় অংশীদারত্ব নিতে আগ্রহী হবেন কি না, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, জেফ বেজোসের সম্পদের পরিমাণ ২৮ হাজার কোটি ডলারের বেশি। এদুয়ার্দো সাভেরিনের সম্পদের পরিমাণও ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী জোটটির আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে কোনো সংশয় নেই।

অমিত ভাটিয়ারও ইংলিশ ফুটবলে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের সঙ্গে প্রায় ১৮ বছর যুক্ত থাকার পর সম্প্রতি তিনি ক্লাবটির বোর্ড থেকে সরে দাঁড়ান এবং নিজের শেয়ার রুবেন জ্ঞানালিঙ্গমের কাছে হস্তান্তর করেন। এবার লিভারপুলে বিনিয়োগকারী জোটের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা ইংলিশ ফুটবলে তার ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

লিভারপুলে বাইরের বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালে এফএসজি ক্লাবটির একটি ছোট অংশের শেয়ার ডাইনেস্টি ইকুইটির কাছে বিক্রি করেছিল। তখন এফএসজি জানিয়েছিল, এ বিনিয়োগের কারণে লিভারপুলের প্রতি তাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

২০১০ সালে টম হিকস ও জর্জ জিলেটের কাছ থেকে প্রায় ৩০ কোটি পাউন্ডে লিভারপুলের মালিকানা নেয় এফএসজি। এরপর ক্লাবটি দুটি প্রিমিয়ার লিগ এবং একটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা জেতে। এ সময় অ্যানফিল্ডের উন্নয়ন এবং কার্কবিতে আধুনিক অনুশীলনকেন্দ্র নির্মাণেও বড় বিনিয়োগ করা হয়।

মাত্র ৩০ কোটি পাউন্ডের ক্রয়মূল্য থেকে লিভারপুলের সম্ভাব্য মূল্যায়ন ৪৫০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছানো এফএসজির জন্য বড় আর্থিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন বিনিয়োগ চুক্তি সেই যাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে পারে।

তবে সম্ভাব্য এই চুক্তিকে এফএসজির লিভারপুল বিক্রির প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইঙ্গিত মিলছে, এটি পূর্ণ মালিকানা হস্তান্তর নয়। বরং এফএসজির নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেই নতুন বিনিয়োগকারীদের সংখ্যালঘু অংশীদার হিসেবে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ