বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়ার ক্ষেত্রে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, অসাধু ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কারণে অনেক প্রবাসীকে জমিজমা বিক্রি করে বিদেশ যেতে হচ্ছে। বর্তমানে এ ব্যয় ১০ থেকে ১৪ লাখ টাকা পর্যন্ত হলেও তা সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সিঙ্গাপুরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের গর্ব ও অর্থনীতির অন্যতম শক্তি। তাদের কঠোর পরিশ্রমে একদিকে পরিবারের জীবনমান উন্নত হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হচ্ছে।
শামা ওবায়েদ জানান, বর্তমানে সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে এসেছে প্রায় ৪৭৫ দশমিক ০৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
প্রবাসীদের সেবা আরও কার্যকর করা এবং তাদের সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো পৃথক ‘মাইগ্রেশন উইং’ চালু করা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ হিসেবে কাজ করছে।
বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে জনশক্তি ও কর্মসংস্থান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। দক্ষতা উন্নয়ন, পুনঃকর্মসংস্থান, আন্তঃপ্রতিষ্ঠান কর্মী স্থানান্তর এবং ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঁচটি বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান শামা ওবায়েদ। এর মধ্যে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো, সিঙ্গাপুরের আইন ও কর্মসংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখানো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল থাকা এবং উগ্রবাদ ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা থেকে দূরে থাকার বিষয় রয়েছে।
এ ছাড়া ভিন্ন ভাষা ও ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং নতুন প্রযুক্তি, কারিগরি জ্ঞান ও ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরে কর্মরত ১৫ জন প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। পাশাপাশি চারটি প্রতিষ্ঠান, দুইজন সিআইপি এবং সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশভিত্তিক ব্যাংকগুলোর আওতাধীন শীর্ষ তিনটি এক্সচেঞ্জ হাউজকেও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে স্মারক তুলে দেন।