হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ এবং বেরিয়ে যাওয়া জাহাজের চলাচলেও তদারকির ভূমিকা চাইছে ইরান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাতে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রণালির ইরানি অংশ দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোকে তেহরানের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণের অধীনে চলাচল করতে হবে। অন্যদিকে ওমানের দিক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া জাহাজের তদারকিতেও ইরান ভূমিকা রাখতে চায়। সূত্রটি জানিয়েছে, জাহাজের কাছ থেকে ‘টোল’-এর পরিবর্তে নৌচলাচল, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সেবার বিনিময়ে ‘সেবা ফি’ আদায়ের বিষয়েও আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য ব্যবস্থায় প্রবেশকারী জাহাজ থেকে পাওয়া অর্থ ইরান এবং বহির্গামী জাহাজের ফি ওমান পেতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
এর আগে ওমান প্রণালিটি পরিচালনার জন্য একটি যৌথ আঞ্চলিক ব্যবস্থা প্রস্তাব করেছিল। ওই প্রস্তাবে জাহাজের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক অর্থের পরিবর্তে স্বেচ্ছা অনুদান নেওয়া এবং ইরানকে একক নিয়ন্ত্রণ না দেওয়ার কথা বলা হয়।
প্রস্তাবটি মালাক্কা প্রণালির ব্যবস্থাপনা কাঠামোর আদলে তৈরি। মালাক্কা প্রণালি-সংলগ্ন ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর যৌথভাবে নৌচলাচল, পরিবেশ সুরক্ষা এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে।
তবে তেহরান ওমানের সমান অংশীদারত্বের প্রস্তাব মেনে নেয়নি। ইরানের দাবি, নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌম অধিকারের স্বার্থে হরমুজে তাদের অধিকতর নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো হরমুজে অবাধ, শর্তহীন ও বাধাহীন নৌচলাচলের দাবি জানিয়ে আসছে। তারা ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং জাহাজের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক অর্থ আদায়ের বিরোধিতা করছে।
বিশ্বে বাণিজ্যিকভাবে পরিবাহিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও পণ্য পরিবহনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স