ভারতের সীমান্তবর্তী পূর্বাঞ্চলীয় সেক্টরে চীনের তৈরি বিপুলসংখ্যক এসএইচ-১৫ ট্রাক-মাউন্টেড সেলফ-প্রপেলড হাউইটজার মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ এবং পরবর্তী ভারত–পাকিস্তান সংঘাতের পর সীমান্তে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে এসব কামান মোতায়েন করেছে ইসলামাবাদ।
চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান নরিনকোর তৈরি এসএইচ-১৫ একটি ১৫৫ মিলিমিটার ট্রাক-মাউন্টেড হাউইটজার। অস্ত্রটি ৬×৬ চ্যাসিসের ওপর স্থাপন করা এবং এতে প্রায় ৪০০ হর্সপাওয়ারের ডিজেল ইঞ্জিন রয়েছে। দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের সক্ষমতার কারণে এটি ‘শুট অ্যান্ড স্কুট’ ধরনের কামান হিসেবে পরিচিত।
প্রচলিত গোলাবারুদ ব্যবহার করে কামানটি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। রকেট-অ্যাসিস্টেড প্রজেক্টাইল ব্যবহার করলে এর পাল্লা প্রায় ৫০ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে। স্বয়ংক্রিয় ফায়ার-কন্ট্রোল ও হাইড্রোলিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে এটি প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ছয়টি গোলা ছুড়তে সক্ষম বলে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশ্য প্রতিরক্ষা তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান নরিনকোর কাছ থেকে ২৩৬টি এসএইচ-১৫ কেনার চুক্তি করেছিল। ২০২২ সালে অস্ত্রটির প্রথম চালান পাকিস্তানে পৌঁছায়। তবে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে প্রায় ২৫০টি হাউইটজার মোতায়েনের কথা বলা হলেও এ সংখ্যা পাকিস্তানের সরকার বা সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এসএইচ-১৫ মোতায়েন চীন ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রতিফলন। যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও সাঁজোয়া যানের পাশাপাশি পাকিস্তানের গোলন্দাজ বাহিনীর আধুনিকায়নেও বেইজিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এদিকে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা বরাদ্দ প্রায় ১৮ শতাংশ বাড়িয়ে তিন লাখ কোটি পাকিস্তানি রুপি করেছে ইসলামাবাদ। আগের অর্থবছরে দেশটির প্রতিরক্ষা বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার কোটি রুপি।