ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ ৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু
ফলো করুন

দেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির সুযোগ চালু করেছে সরকার। এখন থেকে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে শূন্য পদের বিপরীতে পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলির আবেদন করতে পারবেন শিক্ষকরা।

এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ জারি করেছে। নীতিমালাটি এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে। এরপর শিক্ষকরা সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলির আবেদন করবেন। প্রতিবছর সরকারি প্রজ্ঞাপনে আবেদন, বদলির আদেশ এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের সময়সীমা জানানো হবে।

প্রথম নিয়োগের পর একই প্রতিষ্ঠানে টানা দুই বছর চাকরি করলে একজন শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারবেন। নতুন কর্মস্থলে বদলি হওয়ার পর পুনরায় আবেদন করতে হলে সেখানেও কমপক্ষে দুই বছর চাকরি করতে হবে। একজন শিক্ষক পুরো চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।

শিক্ষকরা প্রথমে নিজ জেলার শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় পদ খালি না থাকলে নিজ বিভাগের অন্য জেলার প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা যাবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে দেশের যেকোনো জেলা কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল所在 জেলায় বদলির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

একই পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন জমা পড়লে নারী শিক্ষক, বর্তমান কর্মস্থল থেকে দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দূরত্ব নির্ধারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হলে আবেদন বাতিল হবে।

একজন শিক্ষক আবেদনে সর্বোচ্চ তিনটি পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন। একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক বদলি হতে পারবেন। তবে একই বিষয়ের একাধিক শিক্ষককে একই বছরে বদলির সুযোগ দেওয়া হবে না।

বদলির পুরো প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্বে থাকবেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

বদলি হওয়া শিক্ষকের এমপিও সুবিধা, বেতন-ভাতা ও চাকরির জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তবে বদলির জন্য কোনো টিএ-ডিএ দেওয়া হবে না এবং বদলিকে আইনগত অধিকার হিসেবেও দাবি করা যাবে না।

বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে বর্তমান প্রতিষ্ঠানপ্রধান শিক্ষককে অবমুক্ত করবেন। অবমুক্তির পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।

সাময়িক বরখাস্ত থাকা কিংবা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকা শিক্ষকরা বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

মাউশির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যতগুলো শূন্য পদ থাকবে, ততজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। তবে আবেদন নীতিমালায় নির্ধারিত এলাকা ও শর্তের মধ্যেই করতে হবে।

ট্যাগ : শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিও শিক্ষক

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির সুযোগ চালু করেছে সরকার। এখন থেকে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে শূন্য পদের বিপরীতে পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলির আবেদন করতে পারবেন শিক্ষকরা।

এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ জারি করেছে। নীতিমালাটি এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে। এরপর শিক্ষকরা সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলির আবেদন করবেন। প্রতিবছর সরকারি প্রজ্ঞাপনে আবেদন, বদলির আদেশ এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের সময়সীমা জানানো হবে।

প্রথম নিয়োগের পর একই প্রতিষ্ঠানে টানা দুই বছর চাকরি করলে একজন শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারবেন। নতুন কর্মস্থলে বদলি হওয়ার পর পুনরায় আবেদন করতে হলে সেখানেও কমপক্ষে দুই বছর চাকরি করতে হবে। একজন শিক্ষক পুরো চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।

শিক্ষকরা প্রথমে নিজ জেলার শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় পদ খালি না থাকলে নিজ বিভাগের অন্য জেলার প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা যাবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে দেশের যেকোনো জেলা কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল所在 জেলায় বদলির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

একই পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন জমা পড়লে নারী শিক্ষক, বর্তমান কর্মস্থল থেকে দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দূরত্ব নির্ধারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হলে আবেদন বাতিল হবে।

একজন শিক্ষক আবেদনে সর্বোচ্চ তিনটি পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন। একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক বদলি হতে পারবেন। তবে একই বিষয়ের একাধিক শিক্ষককে একই বছরে বদলির সুযোগ দেওয়া হবে না।

বদলির পুরো প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্বে থাকবেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

বদলি হওয়া শিক্ষকের এমপিও সুবিধা, বেতন-ভাতা ও চাকরির জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তবে বদলির জন্য কোনো টিএ-ডিএ দেওয়া হবে না এবং বদলিকে আইনগত অধিকার হিসেবেও দাবি করা যাবে না।

বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে বর্তমান প্রতিষ্ঠানপ্রধান শিক্ষককে অবমুক্ত করবেন। অবমুক্তির পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।

সাময়িক বরখাস্ত থাকা কিংবা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকা শিক্ষকরা বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

মাউশির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যতগুলো শূন্য পদ থাকবে, ততজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। তবে আবেদন নীতিমালায় নির্ধারিত এলাকা ও শর্তের মধ্যেই করতে হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ