মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই উপত্যকাটির বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রোববার ভোর থেকে চালানো হামলাগুলোতে সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানি হয়েছে।
পশ্চিম গাজা শহরের আল-সুসি টাওয়ারের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে হামলায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। তাদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী, তার স্বামী এবং পাঁচ বছরের সন্তান রয়েছে। খান ইউনিসের আল-কারারা এলাকায় আরেকটি বাসায় হামলায় একই পরিবারের আরও তিন সদস্য প্রাণ হারান।
এ ছাড়া দেইর আল-বালাহে মোটরসাইকেলে থাকা কয়েকজন, জাবালিয়া শরণার্থীশিবির, আল-মাওয়াসি ও রিমাল এলাকায় পৃথক হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। গাজা শহরে একটি গাড়িতে চালানো হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে শনিবার দেইর আল-বালাহের আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের ওষুধ সংরক্ষণাগারে হামলা চালানো হয়। এতে দুটি স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস এবং আরও দুটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী ধ্বংসের মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন, এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই হামলাটি চালানো হয়।
গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও জনসমাগমস্থলে একাধিক হামলা হয়েছে। এসব হামলায় শনিবার অন্তত আটজনসহ আরও কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এর মধ্যেই ওয়াশিংটনের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার আওতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর, একটি শান্তি বোর্ড গঠন এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের কথা জানানো হয়েছে। তবে পরিকল্পনার বিভিন্ন শর্ত নিয়ে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
হামাস অস্ত্র সমর্পণের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি জানালেও ইসরায়েল বলছে, সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, আলোচনা চলাকালে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার কোনো বাধ্যবাধকতা তারা দেখছেন না।
অন্যদিকে হামাসের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা ব্যাহত করতে ইসরায়েল হামলা বাড়িয়েছে। মধ্যস্থতাকারীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন শান্তি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা।
ফিলিস্তিনি পক্ষের দাবি, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও অব্যাহত হামলা এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধার কারণে চুক্তিটি কার্যকর হচ্ছে না। তাদের হিসাবে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা