চট্টগ্রামে দায়ের হওয়া হত্যা ও অস্ত্র আইনের দুটি পৃথক মামলায় মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হয়। পুলিশ দুই মামলায় সাত দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত প্রতিটি মামলায় পাঁচ দিন করে রিমান্ড অনুমোদন করেন।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, হত্যা ও অস্ত্র মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল।
গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে পুলিশ।
পরে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি একটি অপরাধী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুত এবং সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।
সেই তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য তিনজন হলেন আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল, মো. শামীম এবং মো. সাফায়েত হোসেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন হত্যাকাণ্ডে তার সম্ভাব্য ভূমিকা, অস্ত্রের উৎস, সহযোগীদের পরিচয় এবং অপরাধচক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবেন। তবে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।