বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আসন্ন উচ্চপর্যায়ের সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক এবং সহযোগিতা সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, সম্ভাব্য নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকল। পাশাপাশি বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে মালয়েশিয়া সফর করবেন। এরপর চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে তিনি চীন সফরে যাবেন।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। সফর দুটিকে ঘিরে প্রতিনিধি দল তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে এবং সদস্য সংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার করা। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হবে।
আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। পরদিন ২৬ জুন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে।
চীন সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ সামার দাভোস ফোরামের ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনেও যোগ দেবেন। ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিনিধি অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে। অন্যদিকে মালয়েশিয়া সফরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই দুই সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।