ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

পুলিশের ব্যারিকেড পেরিয়ে হবিগঞ্জের পথে এনসিপি নেতারা

পুলিশের ব্যারিকেড পেরিয়ে হবিগঞ্জের পথে এনসিপি নেতারা
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

পুলিশের বাধা অতিক্রম করে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা। বুধবার বিকেলে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় তাদের গাড়িবহর আটকে দিয়েছিল পুলিশ।

বুধবার বিকেল ৪টার কিছু আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপির নেতারা হবিগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বহরে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতা ছিলেন।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গাড়িবহরটি চা-কন্যা এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের গতিরোধ করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে এনসিপির নেতাকর্মীরা ব্যারিকেড অতিক্রম করে হবিগঞ্জের দিকে যাত্রা করেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরে দলীয় কর্মসূচি শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এনসিপি এ হামলার জন্য বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি তিন প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে।

এনসিপি নেতারা প্রথমে হামলার প্রতিবাদে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে ১৪৪ ধারা জারি হওয়ায় কর্মসূচি প্রত্যাহারের কথা জানানো হয়। তবে হামলার ঘটনা ও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে হবিগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক বলেন, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন। তবে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে।

এদিকে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্যসচিব সফিকুর রহমান সিতু বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্য ও সমালোচনায় শালীনতা বজায় রাখা প্রয়োজন। আগের দিনের সংঘর্ষকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার প্রত্যাশা জানান।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল হক জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় বুধবার বিকেল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মঙ্গলবার এনসিপির জুলাই পদযাত্রার সভা শেষে গাড়িবহরটি সবুজবাগ এলাকায় পৌঁছালে একদল যুবক হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমসহ কয়েকজন নেতা পাশের সোনালী ব্যাংক শাখায় আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। ঘটনায় সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে এনসিপি।

হামলার পর রাতে এনসিপি এবং বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলো পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করলে শহরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বুধবার সকালে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

ট্যাগ : এনসিপি হবিগঞ্জ

বাংলা ভিউজ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পুলিশের ব্যারিকেড পেরিয়ে হবিগঞ্জের পথে এনসিপি নেতারা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

পুলিশের বাধা অতিক্রম করে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা। বুধবার বিকেলে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় তাদের গাড়িবহর আটকে দিয়েছিল পুলিশ।

বুধবার বিকেল ৪টার কিছু আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপির নেতারা হবিগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বহরে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতা ছিলেন।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গাড়িবহরটি চা-কন্যা এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের গতিরোধ করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে এনসিপির নেতাকর্মীরা ব্যারিকেড অতিক্রম করে হবিগঞ্জের দিকে যাত্রা করেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরে দলীয় কর্মসূচি শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এনসিপি এ হামলার জন্য বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি তিন প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে।

এনসিপি নেতারা প্রথমে হামলার প্রতিবাদে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে ১৪৪ ধারা জারি হওয়ায় কর্মসূচি প্রত্যাহারের কথা জানানো হয়। তবে হামলার ঘটনা ও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে হবিগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক বলেন, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন। তবে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে।

এদিকে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্যসচিব সফিকুর রহমান সিতু বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্য ও সমালোচনায় শালীনতা বজায় রাখা প্রয়োজন। আগের দিনের সংঘর্ষকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার প্রত্যাশা জানান।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল হক জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় বুধবার বিকেল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মঙ্গলবার এনসিপির জুলাই পদযাত্রার সভা শেষে গাড়িবহরটি সবুজবাগ এলাকায় পৌঁছালে একদল যুবক হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমসহ কয়েকজন নেতা পাশের সোনালী ব্যাংক শাখায় আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। ঘটনায় সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে এনসিপি।

হামলার পর রাতে এনসিপি এবং বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলো পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করলে শহরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বুধবার সকালে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ