রংপুরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে স্থানীয় জনগণকে আরও সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, শুধু সরকারের উদ্যোগের ওপর নির্ভর করে কোনো অঞ্চলের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ, শিল্প ও কৃষিতে বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
সোমবার, ২৭ জুলাই দুপুরে রংপুর নগরীর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সুফলভোগীদের মধ্যে গাছের চারা ও ঋণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ছোটখাটো রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে রংপুরের সামগ্রিক স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী, কৃষক, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এ অঞ্চলের উন্নয়নের গতি বাড়াতে পারে।
রংপুরের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু ঠিকাদারি ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, নতুন উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে রংপুরে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
কৃষি খাতের উন্নয়নকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকের আয় না বাড়লে প্রকৃত অর্থে পল্লী উন্নয়ন সম্ভব নয়। শুধু রাস্তা, সেতু বা বিদ্যুৎ সংযোগ নির্মাণকে উন্নয়নের একমাত্র সূচক হিসেবে দেখলে চলবে না। কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ন্যায্য আয় নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষিত বেকার তরুণদের কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ থাকলেই কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয় না। কারিগরি শিক্ষা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে এবং বিদেশে কাজের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান তুলনামূলক বেশি হলেও রংপুর অঞ্চলের অংশগ্রহণ কম। এ অবস্থার পরিবর্তনে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং মানসম্মত প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে পরিচালক নিয়োগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জনবল বাড়ানো, কৃষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমানো ও পল্লী অর্থনীতি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।