মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা তেহরানের পছন্দ হবে না।
মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে কাতারের উপহার দেওয়া বিমান উন্মোচন অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, কূটনৈতিক সমাধানের প্রতিই তার আস্থা রয়েছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
ট্রাম্প বলেন, ‘৬০ দিনের মধ্যে আমাদের একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। অন্যথায় আমরা এমন কিছু করব, যা তাদের ভালো লাগবে না।’ তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত সেই পর্যায়ে যাবে না।
ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে স্থায়ী চুক্তিতে রূপ দিতে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সময়েই ট্রাম্পের এ সতর্কবার্তা সামনে এলো।
এদিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ৭০০ জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করছে এবং সামুদ্রিক পরিবহন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। তবে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন হুমকির মুখে পড়তে পারে।
ট্রাম্পের ভাষায়, ‘যদি পরিস্থিতি খারাপ হয়, তাহলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কারণ বিলিয়ন ডলারের জাহাজের মালিকেরা মাথার ওপর ক্ষেপণাস্ত্র উড়তে বা পানিতে মাইন ছড়িয়ে থাকতে দেখতে চান না।’
বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ জলপথের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: সামা টিভি