আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে আটক করা হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার (২০ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।”
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার আইনি সুযোগ বিবেচনার কথা জানানোর পর ট্রাম্প এ ঘোষণা দিলেন। তবে পোস্টে তিনি সরাসরি মামদানির নাম উল্লেখ করেননি।
শনিবার প্রচারিত নিউইয়র্ক টাইমসের একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, নেতানিয়াহুকে আটক করতে নিউইয়র্কের আইন কী ধরনের সুযোগ দেয়, তা নগর কর্তৃপক্ষের আইন বিভাগ সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করছে।
মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তার স্থান নেদারল্যান্ডসের হেগে। মেয়র নির্বাচনের প্রচারের সময়ও নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি।
২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধের ঘটনায় কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। তবে পরোয়ানা জারি হওয়া দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সমতুল্য নয়।
ইসরায়েল আইসিসির এখতিয়ার প্রত্যাখ্যান করে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মামদানির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দেশটি আদালতটিকে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে পরোয়ানাকে ভুয়া বলে অভিহিত করেছে।
আইসিসি গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের বিচার করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—কোনো দেশই আদালতটির সদস্য নয়। এ কারণে শুধু আইসিসির পরোয়ানার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আইনি বাধা রয়েছে।
প্রতি বছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে সাধারণত নিউইয়র্ক সফর করেন নেতানিয়াহু। তার সম্ভাব্য পরবর্তী সফরকে কেন্দ্র করেই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সূত্র: রয়টার্স