জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে ভারতজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে একটি ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভরযোগ্য পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ক্ষমতাসীন জোটের সংসদ সদস্যদের এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। ভারতের সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সাংবাদিকদের কাছে মোদির বক্তব্য তুলে ধরেন।
রিজিজু বলেন, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় পুনঃপরীক্ষা আয়োজন এবং সময়মতো ফল প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মোদি দোষীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। যুবসমাজের ভবিষ্যৎ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিকে জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে দেখার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
গত মে মাসে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট বা নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। পরীক্ষাটিতে ২২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। অভিযোগের পর পরীক্ষা বাতিল করে জুনে পুনরায় আয়োজন করা হয়। ঘটনাটি তদন্ত করছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই।
প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগে সোমবার যুব নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির সমর্থকেরা দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে মিছিল করেন। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত মিছিলটি আটকে দিলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। দিল্লি পুলিশের হিসাবে সংঘর্ষে পুলিশ, নিরাপত্তাকর্মী ও বিক্ষোভকারী মিলিয়ে প্রায় ১৮০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের দাবি, দেড় শতাধিক বিক্ষোভকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
মঙ্গলবারও দিল্লির যন্তর মন্তরে কয়েক শ বিক্ষোভকারী অবস্থান করেন। আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও নতুন করে সংসদ অভিমুখে মিছিল না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সিজেপি। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, নতুন সংঘর্ষ ও হতাহতের ঝুঁকি এড়াতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনের পর আন্দোলনটি নতুন গতি পায়। অনশনরত ওয়াংচুককে শনিবার পুলিশ হাসপাতালে নেওয়ার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট তাকে সরকারি হাসপাতাল থেকে পছন্দের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষার ফল নিয়ে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
সূত্র: রয়টার্স