ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সমালোচনা পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের নায়ক ফেরান তোরেস

সমালোচনা পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের নায়ক ফেরান তোরেস
ফেরান তোরেস । ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

জন্মদিন উদ্‌যাপনের জন্য অপেক্ষা করতে হয় চার বছর। কারণ ফেরান তোরেসের জন্ম ২৯ ফেব্রুয়ারি, যে দিনটি ক্যালেন্ডারে আসে লিপ ইয়ারে। তবে এবার থেকে তার জীবনে নতুন একটি বিশেষ দিন যোগ হয়েছে ১৯ জুলাই। এই দিনেই করা তার ঐতিহাসিক গোল স্পেনকে এনে দিয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা।

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে স্পেনের নায়ক হয়ে উঠেছেন ফেরান তোরেস। অথচ পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ছিলেন না দলের নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড়। বদলি হিসেবে নেমেও আগের ম্যাচগুলোতে বড় কোনো প্রভাব রাখতে পারেননি তিনি।

ফাইনালেও শুরুতে বেঞ্চে ছিলেন ২৬ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। ১০৬তম মিনিটে পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামসের হেডের পর বল পেয়ে জালে পাঠান তোরেস। তার সেই গোলেই বিশ্বকাপ ট্রফি নিশ্চিত করে স্পেন।

ম্যাচ শেষে তোরেস বলেন, পুরো বিশ্বকাপজুড়ে তাকে অনেক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, কঠিন সময় পার করার পরই বড় মুহূর্ত আসে।

নিজের শরীরের ট্যাটুর মাধ্যমেও নিজের মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তোরেস। তার গোড়ালিতে লেখা রয়েছে, ‘আমি ডুবে যেতে চাই না’। পিঠে ফিনিক্স পাখির ট্যাটু রয়েছে, যার অর্থ হলো বারবার পড়ে গেলেও আবার ঘুরে দাঁড়ানো।

ক্লাব ক্যারিয়ারেও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তোরেসকে। ২০২২ সালে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে বড় অঙ্কের অর্থে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর প্রত্যাশার চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছিল তাকে। এক পর্যায়ে মানসিক চাপ কাটাতে বিশেষজ্ঞের সহায়তাও নিতে হয়।

পরে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলেন তিনি। নিজের ডাকনাম রাখেন ‘এল তিবুরোন’ বা ‘হাঙর’। কারণ তার মতে, হাঙর কখনো থেমে থাকে না, সবসময় সামনে এগিয়ে যায়।

ফাইনালের পারফরম্যান্সে শুধু গোল নয়, মাঠের অন্য দিকেও অবদান রাখেন তোরেস। মাত্র ৫৮ মিনিট খেলেও প্রতিপক্ষের বক্সে একাধিকবার বিপজ্জনক অবস্থান তৈরি করেন। বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে জয়সূচক গোল করা ইতিহাসের দ্বিতীয় ফুটবলার হয়েছেন তিনি। এর আগে ২০১৪ সালের ফাইনালে জার্মানির মারিও গোটশে এই কীর্তি গড়েছিলেন।

তবে ফাইনালের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি ছিল ম্যাচ শেষে। পরাজয়ের কষ্টে দাঁড়িয়ে থাকা আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন তোরেস।

চার বছরে একবার জন্মদিন পাওয়া তোরেসের জন্য ১৯ জুলাই এখন থেকে শুধু বিশ্বকাপ জয়ের দিন নয়, নিজের ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ের দিন হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ট্যাগ : ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ স্পেন ফাইনাল ফেরান তোরেস

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সমালোচনা পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের নায়ক ফেরান তোরেস

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬

featured Image

জন্মদিন উদ্‌যাপনের জন্য অপেক্ষা করতে হয় চার বছর। কারণ ফেরান তোরেসের জন্ম ২৯ ফেব্রুয়ারি, যে দিনটি ক্যালেন্ডারে আসে লিপ ইয়ারে। তবে এবার থেকে তার জীবনে নতুন একটি বিশেষ দিন যোগ হয়েছে ১৯ জুলাই। এই দিনেই করা তার ঐতিহাসিক গোল স্পেনকে এনে দিয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা।

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে স্পেনের নায়ক হয়ে উঠেছেন ফেরান তোরেস। অথচ পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ছিলেন না দলের নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড়। বদলি হিসেবে নেমেও আগের ম্যাচগুলোতে বড় কোনো প্রভাব রাখতে পারেননি তিনি।

ফাইনালেও শুরুতে বেঞ্চে ছিলেন ২৬ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। ১০৬তম মিনিটে পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামসের হেডের পর বল পেয়ে জালে পাঠান তোরেস। তার সেই গোলেই বিশ্বকাপ ট্রফি নিশ্চিত করে স্পেন।

ম্যাচ শেষে তোরেস বলেন, পুরো বিশ্বকাপজুড়ে তাকে অনেক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, কঠিন সময় পার করার পরই বড় মুহূর্ত আসে।

নিজের শরীরের ট্যাটুর মাধ্যমেও নিজের মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তোরেস। তার গোড়ালিতে লেখা রয়েছে, ‘আমি ডুবে যেতে চাই না’। পিঠে ফিনিক্স পাখির ট্যাটু রয়েছে, যার অর্থ হলো বারবার পড়ে গেলেও আবার ঘুরে দাঁড়ানো।

ক্লাব ক্যারিয়ারেও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তোরেসকে। ২০২২ সালে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে বড় অঙ্কের অর্থে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর প্রত্যাশার চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছিল তাকে। এক পর্যায়ে মানসিক চাপ কাটাতে বিশেষজ্ঞের সহায়তাও নিতে হয়।

পরে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলেন তিনি। নিজের ডাকনাম রাখেন ‘এল তিবুরোন’ বা ‘হাঙর’। কারণ তার মতে, হাঙর কখনো থেমে থাকে না, সবসময় সামনে এগিয়ে যায়।

ফাইনালের পারফরম্যান্সে শুধু গোল নয়, মাঠের অন্য দিকেও অবদান রাখেন তোরেস। মাত্র ৫৮ মিনিট খেলেও প্রতিপক্ষের বক্সে একাধিকবার বিপজ্জনক অবস্থান তৈরি করেন। বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে জয়সূচক গোল করা ইতিহাসের দ্বিতীয় ফুটবলার হয়েছেন তিনি। এর আগে ২০১৪ সালের ফাইনালে জার্মানির মারিও গোটশে এই কীর্তি গড়েছিলেন।

তবে ফাইনালের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি ছিল ম্যাচ শেষে। পরাজয়ের কষ্টে দাঁড়িয়ে থাকা আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন তোরেস।

চার বছরে একবার জন্মদিন পাওয়া তোরেসের জন্য ১৯ জুলাই এখন থেকে শুধু বিশ্বকাপ জয়ের দিন নয়, নিজের ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ের দিন হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ