ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

হরমুজ নির্ভরতা কমাতে নতুন তেল পাইপলাইন উদ্যোগ

হরমুজ নির্ভরতা কমাতে নতুন তেল পাইপলাইন উদ্যোগ
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

ইরাক ও সিরিয়া ভূমধ্যসাগর উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত কিরকুক-বানিয়াস তেল পাইপলাইন পুনর্নির্মাণে একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি হয়েছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক বিজনেস কাউন্সিলের বৈঠকে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তিতে ইরাকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাসরা অয়েল কোম্পানির প্রধান বাসেম আবদুল করিম নাসর। অন্যদিকে সিরিয়ার পক্ষে স্বাক্ষর করেন সিরিয়ান পেট্রোলিয়াম কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ কাবলাওয়ি।

চুক্তি স্বাক্ষরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই প্রকল্পকে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অবকাঠামো উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রকল্পটির কারিগরি ও আর্থিক বাস্তবায়নে মার্কিন নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে। এতে মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শেভরনসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

কিরকুক-বানিয়াস পাইপলাইনটি ১৯৫২ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা রাখত। তবে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় এটি বন্ধ হয়ে যায় এবং ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের পর পাইপলাইনটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পুনর্নির্মাণের জন্য নতুন সংরক্ষণ ট্যাংক, পাম্পিং ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ অবকাঠামোসহ বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে।

এই পাইপলাইন চালু হলে ইরাকের তেল সরবরাহের জন্য বিকল্প রুট তৈরি হবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

ট্যাগ : যুক্তরাষ্ট্র ইরাক মধ্যপ্রাচ্য হরমুজ প্রণালি সিরিয়া

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


হরমুজ নির্ভরতা কমাতে নতুন তেল পাইপলাইন উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

ইরাক ও সিরিয়া ভূমধ্যসাগর উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত কিরকুক-বানিয়াস তেল পাইপলাইন পুনর্নির্মাণে একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি হয়েছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক বিজনেস কাউন্সিলের বৈঠকে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তিতে ইরাকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাসরা অয়েল কোম্পানির প্রধান বাসেম আবদুল করিম নাসর। অন্যদিকে সিরিয়ার পক্ষে স্বাক্ষর করেন সিরিয়ান পেট্রোলিয়াম কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ কাবলাওয়ি।

চুক্তি স্বাক্ষরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই প্রকল্পকে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অবকাঠামো উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রকল্পটির কারিগরি ও আর্থিক বাস্তবায়নে মার্কিন নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে। এতে মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শেভরনসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

কিরকুক-বানিয়াস পাইপলাইনটি ১৯৫২ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা রাখত। তবে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় এটি বন্ধ হয়ে যায় এবং ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের পর পাইপলাইনটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পুনর্নির্মাণের জন্য নতুন সংরক্ষণ ট্যাংক, পাম্পিং ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ অবকাঠামোসহ বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে।

এই পাইপলাইন চালু হলে ইরাকের তেল সরবরাহের জন্য বিকল্প রুট তৈরি হবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ