ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইরান যুদ্ধে কমছে মার্কিন অস্ত্রের মজুত

ইরান যুদ্ধে কমছে মার্কিন অস্ত্রের মজুত
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় এই সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্তমান হারে অস্ত্র ব্যবহার চলতে থাকলে চীন বা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মার্কিন আইনপ্রণেতারাও আকাশ প্রতিরক্ষা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মার্ক কানসিয়ান বলেন, ইরান যুদ্ধের সাম্প্রতিক তীব্রতা অব্যাহত থাকলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হবে।

‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আওতায় ইরানে হামলা এবং ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র হাজার হাজার সমরাস্ত্র ব্যবহার করেছে। বিশেষ করে থাড ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতে বড় চাপ পড়েছে।

বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের থাড ইন্টারসেপ্টর ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের বড় একটি অংশ ব্যবহার হয়ে গেছে। একই সঙ্গে শত শত টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা হয়েছে।

কিন্তু এসব অস্ত্রের উৎপাদন গতি ব্যবহারের তুলনায় অনেক কম। পেন্টাগন মাসে সীমিতসংখ্যক টমাহক ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পায়। নতুন থাড ইন্টারসেপ্টর পেতেও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। ফলে যুদ্ধের আগের মজুত পুনরুদ্ধারে অন্তত তিন থেকে পাঁচ বছর লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন। তবে নতুন কারখানা স্থাপন, সরবরাহব্যবস্থা তৈরি এবং উৎপাদন বাড়াতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

বিশ্বব্যাপী প্যাট্রিয়ট ও অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের চাহিদাও বেড়েছে। মিত্র দেশগুলোকে নিজস্বভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের অনুমতি দিলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কিছুটা চাপ কমতে পারে। তবে জাপান ও জার্মানির অভিজ্ঞতা বলছে, এ ধরনের উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তুলতেও কয়েক বছর প্রয়োজন।

পেন্টাগন অবশ্য অস্ত্রের বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র শন পার্নেল বলেছেন, যেকোনো সময় ও স্থানে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও সক্ষমতা রয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীন বা উত্তর কোরিয়াকে প্রতিহত করার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। তবে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সেই সক্ষমতা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

সূত্র: সিএনএন

ট্যাগ : যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


ইরান যুদ্ধে কমছে মার্কিন অস্ত্রের মজুত

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় এই সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্তমান হারে অস্ত্র ব্যবহার চলতে থাকলে চীন বা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মার্কিন আইনপ্রণেতারাও আকাশ প্রতিরক্ষা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মার্ক কানসিয়ান বলেন, ইরান যুদ্ধের সাম্প্রতিক তীব্রতা অব্যাহত থাকলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হবে।

‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আওতায় ইরানে হামলা এবং ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র হাজার হাজার সমরাস্ত্র ব্যবহার করেছে। বিশেষ করে থাড ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতে বড় চাপ পড়েছে।

বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের থাড ইন্টারসেপ্টর ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের বড় একটি অংশ ব্যবহার হয়ে গেছে। একই সঙ্গে শত শত টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা হয়েছে।

কিন্তু এসব অস্ত্রের উৎপাদন গতি ব্যবহারের তুলনায় অনেক কম। পেন্টাগন মাসে সীমিতসংখ্যক টমাহক ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পায়। নতুন থাড ইন্টারসেপ্টর পেতেও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। ফলে যুদ্ধের আগের মজুত পুনরুদ্ধারে অন্তত তিন থেকে পাঁচ বছর লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন। তবে নতুন কারখানা স্থাপন, সরবরাহব্যবস্থা তৈরি এবং উৎপাদন বাড়াতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

বিশ্বব্যাপী প্যাট্রিয়ট ও অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের চাহিদাও বেড়েছে। মিত্র দেশগুলোকে নিজস্বভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের অনুমতি দিলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কিছুটা চাপ কমতে পারে। তবে জাপান ও জার্মানির অভিজ্ঞতা বলছে, এ ধরনের উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তুলতেও কয়েক বছর প্রয়োজন।

পেন্টাগন অবশ্য অস্ত্রের বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র শন পার্নেল বলেছেন, যেকোনো সময় ও স্থানে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও সক্ষমতা রয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীন বা উত্তর কোরিয়াকে প্রতিহত করার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। তবে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সেই সক্ষমতা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

সূত্র: সিএনএন


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ