ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে সদর ও বাহুবল উপজেলার অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার পরিবারের মানুষ।
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বসতবাড়ি, আউশ ধান, শাকসবজির ক্ষেত, ফলের বাগান, মাছের ঘের, পোলট্রি খামার ও গ্রামীণ সড়ক। কয়েক শ পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্যচাষিরা।
কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, বন্যায় ৬৯৭ হেক্টর আউশ ধান, ১৩১ হেক্টর শাকসবজি এবং ২০ হেক্টর ফলের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সদর ও বাহুবল উপজেলাসহ জেলায় মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হবিগঞ্জ-মিরপুর আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কিছু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করলেও পইল, লামাতাসি ও মিরপুর ইউনিয়নের নতুন নতুন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় জানিয়েছে, হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল ও বানিয়াচং উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ছয় হাজার ৪৪৫টি পরিবার পানিবন্দি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ১৪০ জন। বানভাসি মানুষের মধ্যে নগদ পাঁচ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল এবং এক হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নামলেও কুশিয়ারা, কালনী-কুশিয়ারা ও সুতাং নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে হাওর এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর ও প্রতিরক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
হবিগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় দলের কেউ জড়িত থাকলেও ছাড় দেওয়া হবে না।
সূত্র: কালবেলা
মন্তব্যসমূহ