যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক হামলার জবাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ ঘোষণা করেছে তেহরান।
ইরানের এই ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। গত মাসে সই হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার ভবিষ্যৎও এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা এবং ইরানের হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতে দেশটির সামরিক স্থাপনায় নতুন করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার পরিচালিত অভিযানে ইরানের ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক, বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপের আশপাশে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এর আগে মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার, উপকূলীয় রাডার এবং সামরিক যোগাযোগব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান ও ওমানসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে। কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছেন, একতরফা চুক্তির সময় শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, হরমুজ প্রণালি এককভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন নয় এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ