যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান থেকে নিজেকে কিছুটা আলাদা করার কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রায় ৬০০ শব্দের একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন ভ্যান্স। সেখানে নির্বাচনে দলের পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি সরাসরি ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
ভ্যান্স লেখেন, ‘আপনি যদি মনে করেন, আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিনিময়েও এই যুদ্ধের মূল্য দেওয়া সার্থক হয়েছে, তাহলে সরাসরি সেটাই বলুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তি দিয়ে বোঝান, কেন এই মূল্য দেওয়া যৌক্তিক ছিল। আপনি একমত হোন বা না হোন, অন্তত সেটি হবে সৎ অবস্থান।’
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভ্যান্সের এমন অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। ওয়াশিংটনে আগে থেকেই আলোচনা ছিল, প্রকাশ্যে যুদ্ধের প্রতি সমর্থন জানালেও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি এর বিরোধিতা করেছেন। তবে এত দিন বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি তিনি।
ভ্যান্সের বক্তব্যের পর পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ায়। সাধারণত প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিঃশর্ত আনুগত্য প্রত্যাশা করা ট্রাম্প এবার ভাইস প্রেসিডেন্টের মূল্যায়নের সঙ্গে অনেকটাই একমত হয়েছেন।
ট্রাম্প স্বীকার করেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ফলাফলে ইরান যুদ্ধের বড় প্রভাব ছিল। তবে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি। বরং একই পরিস্থিতি আবার তৈরি হলেও একই সিদ্ধান্ত নিতেন বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের এই প্রতিক্রিয়াকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভ্যান্স প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের কাছ থেকে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ পাওয়া ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে আগামী দিনে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম এবং ইরান যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে দলটির ভেতরে মতপার্থক্য আরও প্রকাশ্যে আসতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স














মন্তব্যসমূহ