যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক দীর্ঘ ও বিস্ফোরক পোস্ট দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেখানে তিনি নির্বাচনে দলের এই নজিরবিহীন বিপর্যয়ের পেছনের গভীর কারণ বিশ্লেষণ করে চার দফা গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। জাতীয় দৈনিক মানবজমিন এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক মূল্যায়নের তথ্য প্রকাশ করেছে।
জেডি ভ্যান্স তাঁর বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইরান যুদ্ধ এবং এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে সাধারণ মানুষের ওপর নেমে আসা অর্থনৈতিক টানাপোড়েনই ছিল রিপাবলিকানদের ক্ষমতা হারানোর প্রধানতম কারণ। তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ যাই থাকুক না কেন, স্বল্পমেয়াদে এই যুদ্ধের কারণে দেশের বাজারে জ্বালানি তেল ও পেট্রলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ভোটারদের মধ্যে যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তারই সরাসরি প্রতিফলন ঘটেছে ব্যালট বাক্সে। এর ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক বহু কট্টর সমর্থকও এবার মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
ভ্যান্সের চার দফা ব্যাখ্যার মধ্যে উঠে এসেছে—প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতের কারণে অভ্যন্তরীণ ভোটারদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া; দ্বিতীয়ত, জ্বালানি তেলের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারকে অস্থিতিশীল করা; তৃতীয়ত, ভোটারদের অর্থনৈতিক উদ্বেগকে অগ্রাহ্য করে পররাষ্ট্রনীতির সামরিক পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব; এবং চতুর্থত, দলীয় প্রচারণায় ভোটারদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সংকট সমাধানের সুস্পষ্ট বার্তার চেয়ে যুদ্ধের রাজনৈতিক ব্যাখ্যাকে বেশি স্থান দেওয়া।
বিস্ফোরক এই পোস্টে ভ্যান্স খোলামেলা স্বীকারোক্তি দিয়ে লেখেন, ডেমোক্র্যাটদের জয়ের চেয়েও এই নির্বাচনের ফলাফল মূলত যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে মার্কিন জনগণের স্পষ্ট অনাস্থার প্রকাশ। ভাইস প্রেসিডেন্টের এই খোলামেলা বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ভ্যান্সের এই দীর্ঘ বিশ্লেষণকে ‘ভালো পর্যালোচনা’ আখ্যা দিয়ে স্বীকার করেছেন যে, যুদ্ধের কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রলের দাম বেড়ে যাওয়া নিশ্চিতভাবেই নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।














মন্তব্যসমূহ