ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়িকা পরীমনিকে কেন্দ্র করে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আদালত থেকে জামিন পেয়ে বের হওয়ার সময় অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা, ধাক্কাধাক্কি, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং স্বয়ং নায়িকার বিরুদ্ধে সাংবাদিকের হাতে খামচি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে আদালত চত্বরে সংঘটিত এ ঘটনায় কর্তব্যরত একাধিক সাংবাদিক ও এক সাধারণ বিচারপ্রার্থীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী, আইনজীবী ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে প্রায় ১০ জন কালো পোশাক পরিহিত ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীর (বডিগার্ড) কড়া বেষ্টনীতে আদালতে আসেন পরীমনি। আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পাওয়ার পর তিনি এজলাস থেকে বের হয়ে গাড়ির দিকে যাওয়ার সময় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ছবি ও বক্তব্য সংগ্রহের চেষ্টা করলে পরীমনির দেহরক্ষীরা গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ পথচারীদের ওপর চড়াও হন এবং মারমুখী আচরণ শুরু করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ‘আগামীর সময়’-এর প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন অভিযোগ করেন, ভিড়ের মধ্যে স্বয়ং চিত্রনায়িকা পরীমনি তাঁর হাতে খামচি দেন। দৈনিক ‘সমকাল’-এর আদালত প্রতিবেদক রবিউল হোসেন অভিযোগ করেন, অভিনেত্রী নিজে তাঁর হাত থেকে দায়িত্ব পালনের মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন। এ ছাড়া ‘জাগো নিউজ’-এর আদালত প্রতিবেদক আশিকুজ্জামানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
নিরাপত্তাকর্মীদের বেপরোয়া ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের শিকার হয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত ‘জাগো নিউজ’-এর নিজস্ব প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান এবং মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার গুরুতর আহত হন। আশিকুজ্জামানের পিঠে এবং কাউছারের কাঁধ ও হাতে প্রচণ্ড আঘাত লাগে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সহকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে আশিকুজ্জামানকে আদালতের পাশের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। আদালত চত্বরে কর্মরত সাংবাদিকরা এমন নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও বিচার দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় নিয়মিত শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় বুধবার (৪ নভেম্বর) আদালত পরীমনির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিন প্রার্থনা করলে শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। কিন্তু জামিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আদালত ত্যাগের মুহূর্তেই এ সহিংস ও বিশৃঙ্খল ঘটনার সূত্রপাত হয়।














মন্তব্যসমূহ