ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার কারণে দেশকে চড়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হলেও এই পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সঠিক ছিল বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে স্থায়ীভাবে বিরত রাখতে সামরিক হামলা চালানো ছাড়া ওয়াশিংটনের সামনে অন্য কোনো বিকল্প পথ খোলা ছিল না।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক বিপর্যয় ও অর্থনৈতিক মূল্য দেওয়া সার্থক হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি এটি সম্পূর্ণ সার্থক হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমাদের সামনে কোনো ভিন্ন উপায় ছিল না। ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থেই অত্যন্ত জরুরি ছিল এবং আমরা এখনো সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
এর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করেছিলেন যে, ইরান যুদ্ধের চড়া খেসারত দিতে গিয়েই মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টিকে চরম পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছে। ভ্যান্সের বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ট্রাম্প তাঁর সাথে আংশিক একমত প্রকাশ করেন এবং স্বীকার করেন যে এই সংঘাতের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, তাঁর (ভ্যান্সের) পর্যবেক্ষণ অনেকাংশেই সত্য; কারণ এই যুদ্ধের ফলেই অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে।’
তবে যুদ্ধের কৌশলগত যৌক্তিকতা তুলে ধরে ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক শক্তিধর হতে দেওয়া যায় না। তিনি উল্লেখ করেন, একই ধরনের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি পুনরায় তৈরি হলেও তিনি একই সামরিক সিদ্ধান্তের পুনরাবৃত্তি করতেন; কারণ দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় সুরক্ষার জন্য এটিই ছিল একমাত্র কার্যকর সমাধান। যুদ্ধ সংক্রান্ত নিজের কোনো পদক্ষেপ নিয়েই তিনি অনুতপ্ত নন বলেও সাফ জানিয়ে দেন।
উল্লেখ্য, এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স খোলামেলাভাবে লিখেছিলেন, ‘আমাদের পরাজয়ের মূল কারণ হলো ইরান যুদ্ধ।’ ভ্যান্সের বিশ্লেষণকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়েও ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি নিজে সরাসরি প্রার্থী হিসেবে ব্যালটে থাকলে রিপাবলিকানরা বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হতো। নিজের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার তুলনা টেনে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনি সমাবেশে তাঁর প্রতি জনগণের যে অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল, তা দলীয় অন্যান্য প্রার্থীদের অনুকূলে পুরোপুরি রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে বুধবার রাতে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া অপর এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় সুর প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, আসন্ন কংগ্রেসে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও তাদের সঙ্গে নীতিগত সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে। ট্রাম্পের মতে, সাধারণ মানুষ বাইরে থেকে যতটা জটিল ভাবছে, বাস্তবে অনেক ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তার চেয়েও বেশি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।
সূত্র: আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু














মন্তব্যসমূহ