বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে যোগ হলো এক আবেগঘন ও স্মরণীয় মুহূর্ত। একই প্রতিষ্ঠানের একই সালামি মঞ্চে ৩৭ বছরের ব্যবধানে সালামি গ্রহণ করেছেন বাবা ও ছেলে। ১৯৮৯ সালে যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে সালামি গ্রহণ করেছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এম. আজিজুল হক, পিএসপি, দীর্ঘ ৩৭ বছর পর ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর সেই একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে সালামি গ্রহণ করেন তাঁরই সন্তান পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ, বিপিএম।
ঘটনাটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতার পুনরাবৃত্তি নয়; বরং বাংলাদেশ পুলিশের প্রজন্মান্তরের নেতৃত্ব, ঐতিহ্য ও পারিবারিক উত্তরাধিকারের এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
১৯৮৯ সালে পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলের (PSTS) সালামি মঞ্চে তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা এম. আজিজুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে সালামি গ্রহণ করেন। সময়ের পরিক্রমায় তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদ আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর একই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের একই সালামি মঞ্চে দাঁড়িয়ে সালামি গ্রহণ করেন তাঁর ছেলে হাসিব আজিজ, বিপিএম। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন)-এর প্রধান হিসেবে অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন।
একই মঞ্চে দুই প্রজন্মের এই উপস্থিতি সময়ের ব্যবধানে তৈরি করেছে এক অনন্য সংযোগ। ১৯৮৯ সালের সেই দৃশ্যের ৩৭ বছর পর ২০২৬ সালে প্রায় একই প্রেক্ষাপটে নতুন করে ফিরে আসা যেন ইতিহাসের পাতায় আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়।
পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলের সালামি মঞ্চটি তাই এ ঘটনার মধ্য দিয়ে পেয়েছে বিশেষ আবেগ ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য। একই স্থানে দাঁড়িয়ে দুই প্রজন্মের দুই পুলিশ কর্মকর্তার সালামি গ্রহণের ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, একটি প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য কেবল অবকাঠামো বা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা মানুষের কর্মজীবন, দায়িত্ববোধ ও প্রজন্মান্তরের পথচলার মধ্য দিয়েও বহমান থাকে।
৩৭ বছরের ব্যবধানে একই মঞ্চে বাবা ও ছেলের এই উপস্থিতি বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে এক বিরল ও তাৎপর্যপূর্ণ স্মৃতি হয়ে থাকবে। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, দায়িত্বের পরিধিও পরিবর্তিত হয়েছে; কিন্তু একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে সালামি গ্রহণের এই যোগসূত্র দুই প্রজন্মের কর্মজীবনকে এক সুতোয় গেঁথে দিয়েছে।
এ যেন একই প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়িত্ব, সম্মান ও পেশাগত ঐতিহ্যের এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে এগিয়ে চলার গল্প।














মন্তব্যসমূহ