ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সাংবাদিকদের হয়রানি ঠেকাতে সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন

সাংবাদিকদের হয়রানি ঠেকাতে সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের কারণে কোনো সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিধান যুক্ত হতে পারে সাইবার সুরক্ষা আইনে। সাংবাদিকদের হয়রানি রোধ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এই প্রস্তাবের বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করার জন্য গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৈঠকে গুরুত্ব পায় সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মতামত। সংশোধিত আইন যাতে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বাধা কিংবা হয়রানির হাতিয়ার হয়ে না ওঠে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বিশেষ করে প্রকাশিত বা প্রচারিত সংবাদের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

তবে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত আইনি বিধানে পরিণত হয়নি। এটি সংশোধিত খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

সাইবার সুরক্ষা আইনের বিভিন্ন ধারায় পরিবর্তন আনার বিষয়েও আলোচনা করেছে মন্ত্রিসভা কমিটি।

মানহানি, কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট করার বিষয়ে মতামত দেন সংশ্লিষ্টরা। আইনের অস্পষ্ট বা অতিব্যাপক সংজ্ঞার কারণে যেন মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথা বলা হয়েছে।

পাশাপাশি ‘সাইবার স্পেস’-এর সংজ্ঞা আরও সুনির্দিষ্ট করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

খসড়া আইনে কোনো কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কারণ জানানোর বিধান রাখার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

ব্লক করা কনটেন্ট পুনরায় উন্মুক্ত করার আবেদন কত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কোনো সংবাদমাধ্যম বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ প্রদান এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংশোধিত আইনে মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য কাঠামোয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়েও মতামত এসেছে।

পাশাপাশি আইনটির বিষয়ে জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী এবং মেটার মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে পরামর্শ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে অংশীজনদের সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়া আবার পরিমার্জন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশের বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে সাধারণ মানুষও মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সাইবার অপরাধ দমনের পাশাপাশি নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের গঠনমূলক পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে আইনটি আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করার উদ্যোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সব পক্ষের মতামত পর্যালোচনা করেই সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ট্যাগ : গণমাধ্যম সাংবাদিক সাইবার সুরক্ষা আইন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


সাংবাদিকদের হয়রানি ঠেকাতে সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের কারণে কোনো সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিধান যুক্ত হতে পারে সাইবার সুরক্ষা আইনে। সাংবাদিকদের হয়রানি রোধ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এই প্রস্তাবের বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করার জন্য গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৈঠকে গুরুত্ব পায় সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মতামত। সংশোধিত আইন যাতে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বাধা কিংবা হয়রানির হাতিয়ার হয়ে না ওঠে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বিশেষ করে প্রকাশিত বা প্রচারিত সংবাদের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

তবে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত আইনি বিধানে পরিণত হয়নি। এটি সংশোধিত খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

সাইবার সুরক্ষা আইনের বিভিন্ন ধারায় পরিবর্তন আনার বিষয়েও আলোচনা করেছে মন্ত্রিসভা কমিটি।

মানহানি, কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট করার বিষয়ে মতামত দেন সংশ্লিষ্টরা। আইনের অস্পষ্ট বা অতিব্যাপক সংজ্ঞার কারণে যেন মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথা বলা হয়েছে।

পাশাপাশি ‘সাইবার স্পেস’-এর সংজ্ঞা আরও সুনির্দিষ্ট করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

খসড়া আইনে কোনো কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কারণ জানানোর বিধান রাখার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

ব্লক করা কনটেন্ট পুনরায় উন্মুক্ত করার আবেদন কত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কোনো সংবাদমাধ্যম বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ প্রদান এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংশোধিত আইনে মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য কাঠামোয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়েও মতামত এসেছে।

পাশাপাশি আইনটির বিষয়ে জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী এবং মেটার মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে পরামর্শ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে অংশীজনদের সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়া আবার পরিমার্জন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশের বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে সাধারণ মানুষও মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সাইবার অপরাধ দমনের পাশাপাশি নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের গঠনমূলক পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে আইনটি আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করার উদ্যোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সব পক্ষের মতামত পর্যালোচনা করেই সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ