ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা চিহ্নিত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় নজর রাখবে সংসদীয় ককাস

মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা চিহ্নিত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় নজর রাখবে সংসদীয় ককাস
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

দেশে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা চিহ্নিত এবং সেসব ঘটনার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে নবগঠিত মানবাধিকার ও শান্তিবিষয়ক সংসদীয় ককাস। একই সঙ্গে নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্য জানার অধিকার ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে কাজ করবে এই সংসদীয় উদ্যোগ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ককাসের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের টানেলে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ককাসের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন।

তিনি বলেন, নাগরিকদের স্বাধীনভাবে কথা বলা, মতামত প্রকাশ, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া এবং নিরাপদে জীবনযাপনের অধিকার নিশ্চিত করাই এই ককাসের প্রধান উদ্দেশ্য। সংসদের ভেতরে ও বাইরেও মানবাধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করবে এটি।

ফাহিমা নাসরিন বলেন, অতীতের শাসনামলে দেশে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এনকাউন্টারের নামে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তাঁর মতে, এসব ঘটনার যথাযথ পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতে মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ককাস সভাপতি জানান, বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথম মানবাধিকারবিষয়ক সংসদীয় ককাস গঠন করা হয়েছে। প্রথম বৈঠকে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, আইনের শাসন, বিচারব্যবস্থা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করবে ককাস।

ককাসের সভাপতি জানান, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এলে তার কারণ ও প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছে কি না এবং বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা হবে।

তিনি বলেন, এই সংসদীয় ককাসে সরকারি ও বিরোধী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা রয়েছেন। ফলে এটি শুধু ক্ষমতাসীন দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কোনো উদ্যোগ নয়।

এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, অতীতে যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন এবং যারা এসব ঘটনার শিকার হয়েছেন, উভয় পক্ষকে চিহ্নিত করে একটি গ্রহণযোগ্য চিত্র তুলে ধরতে হবে।

ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সতর্কতা ও সচেতনতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যাতে নিজেদের ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ না পান, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার।

ককাসকে কার্যকর করতে নির্বাহী বিভাগের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবাধিকার পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন ফাহিমা নাসরিন।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৩৬ দিনে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে অনেকে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া আন্দোলনের সময় শিশুদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন ককাস সভাপতি।

মানবাধিকার সুরক্ষায় ককাসের কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

পাশাপাশি মানবাধিকারবিষয়ক সভা, সেমিনার ও গবেষণামূলক কার্যক্রমে ককাসের সদস্যদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ককাসের সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকার এবং নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ছাড়াও সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, মীর আহমাদ বিনকাসেম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, মো. আবুল হাসনাত, জহরত আদিব চৌধুরী, সানজিদা ইসলাম ও আন্না মিনজ অংশ নেন।

এ ছাড়া জাতীয় সংসদ সচিবালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : মানবাধিকার সংসদীয় ককাস ফাহিমা নাসরিন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা চিহ্নিত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় নজর রাখবে সংসদীয় ককাস

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা চিহ্নিত এবং সেসব ঘটনার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে নবগঠিত মানবাধিকার ও শান্তিবিষয়ক সংসদীয় ককাস। একই সঙ্গে নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্য জানার অধিকার ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে কাজ করবে এই সংসদীয় উদ্যোগ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ককাসের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের টানেলে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ককাসের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন।

তিনি বলেন, নাগরিকদের স্বাধীনভাবে কথা বলা, মতামত প্রকাশ, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া এবং নিরাপদে জীবনযাপনের অধিকার নিশ্চিত করাই এই ককাসের প্রধান উদ্দেশ্য। সংসদের ভেতরে ও বাইরেও মানবাধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করবে এটি।

ফাহিমা নাসরিন বলেন, অতীতের শাসনামলে দেশে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এনকাউন্টারের নামে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তাঁর মতে, এসব ঘটনার যথাযথ পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতে মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ককাস সভাপতি জানান, বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথম মানবাধিকারবিষয়ক সংসদীয় ককাস গঠন করা হয়েছে। প্রথম বৈঠকে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, আইনের শাসন, বিচারব্যবস্থা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করবে ককাস।

ককাসের সভাপতি জানান, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এলে তার কারণ ও প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছে কি না এবং বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা হবে।

তিনি বলেন, এই সংসদীয় ককাসে সরকারি ও বিরোধী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা রয়েছেন। ফলে এটি শুধু ক্ষমতাসীন দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কোনো উদ্যোগ নয়।

এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, অতীতে যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন এবং যারা এসব ঘটনার শিকার হয়েছেন, উভয় পক্ষকে চিহ্নিত করে একটি গ্রহণযোগ্য চিত্র তুলে ধরতে হবে।

ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সতর্কতা ও সচেতনতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যাতে নিজেদের ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ না পান, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার।

ককাসকে কার্যকর করতে নির্বাহী বিভাগের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবাধিকার পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন ফাহিমা নাসরিন।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৩৬ দিনে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে অনেকে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া আন্দোলনের সময় শিশুদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন ককাস সভাপতি।

মানবাধিকার সুরক্ষায় ককাসের কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

পাশাপাশি মানবাধিকারবিষয়ক সভা, সেমিনার ও গবেষণামূলক কার্যক্রমে ককাসের সদস্যদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ককাসের সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকার এবং নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ছাড়াও সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, মীর আহমাদ বিনকাসেম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, মো. আবুল হাসনাত, জহরত আদিব চৌধুরী, সানজিদা ইসলাম ও আন্না মিনজ অংশ নেন।

এ ছাড়া জাতীয় সংসদ সচিবালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ