ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ছাত্রশিবিরের ১৩ দফা দাবি

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ছাত্রশিবিরের ১৩ দফা দাবি
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে জুলাই সনদের আলোকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাঠামোগত সংস্কার এবং এক বছরের মধ্যে বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগত ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার মাধ্যম হতে পারে না। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করতে হবে।

শিবির সভাপতি অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বর্তমানে পিএসসি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না।

তাঁর দাবি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মেধা ও জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে পিএসসির প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে সরকারি কর্ম কমিশন সংস্কারের যে প্রস্তাব রয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা দূর করতে ‘ওয়ান ইয়ার, ওয়ান বিসিএস’ নীতি কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।

এ ছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত নিয়োগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১২ মাসের মধ্যে সব কার্যক্রম শেষ করা এবং প্রতিবছর নির্দিষ্ট নিয়োগ ক্যালেন্ডার প্রকাশের প্রস্তাব দেন শিবির সভাপতি।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত এক হাজার ২০০ জনের বেশি প্রার্থীকে নিয়োগপত্র না দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

পাশাপাশি বিভিন্ন বিসিএসের গেজেট থেকে প্রার্থীদের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

শিবির সভাপতির অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে কোনো কোনো প্রার্থী নিয়োগে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন পদ্ধতি সংস্কারেরও দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।

সংগঠনটির প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে যাচাই কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলে তাঁকে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে। একই সঙ্গে আত্মপক্ষ সমর্থন, ভুল তথ্য সংশোধন ও আপিল করার সুযোগ রাখতে হবে।

শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের ভিত্তিতে কাউকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া যাবে না বলেও দাবি জানানো হয়।

নিয়োগ পরীক্ষার মৌখিক মূল্যায়নেও পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।

সংগঠনটির প্রস্তাবে মৌখিক পরীক্ষার জন্য অভিন্ন মূল্যায়ন কাঠামো তৈরি, পরীক্ষকদের মূল্যায়নের রেকর্ড সংরক্ষণ এবং ভাইভার অডিও রেকর্ড রাখার কথা বলা হয়েছে।

এর ফলে মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা পর্যালোচনা করার সুযোগ থাকবে বলে মনে করে সংগঠনটি।

এ ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রক্সি পরীক্ষা এবং অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব।

দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিগবা, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মহিউদ্দিন খান এবং ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার সভাপতি আসিফ আব্দুল্লাহসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : সরকারি চাকরি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


সরকারি চাকরিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ছাত্রশিবিরের ১৩ দফা দাবি

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে জুলাই সনদের আলোকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাঠামোগত সংস্কার এবং এক বছরের মধ্যে বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগত ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার মাধ্যম হতে পারে না। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করতে হবে।

শিবির সভাপতি অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বর্তমানে পিএসসি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না।

তাঁর দাবি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মেধা ও জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে পিএসসির প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে সরকারি কর্ম কমিশন সংস্কারের যে প্রস্তাব রয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা দূর করতে ‘ওয়ান ইয়ার, ওয়ান বিসিএস’ নীতি কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।

এ ছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত নিয়োগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১২ মাসের মধ্যে সব কার্যক্রম শেষ করা এবং প্রতিবছর নির্দিষ্ট নিয়োগ ক্যালেন্ডার প্রকাশের প্রস্তাব দেন শিবির সভাপতি।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত এক হাজার ২০০ জনের বেশি প্রার্থীকে নিয়োগপত্র না দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

পাশাপাশি বিভিন্ন বিসিএসের গেজেট থেকে প্রার্থীদের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

শিবির সভাপতির অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে কোনো কোনো প্রার্থী নিয়োগে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন পদ্ধতি সংস্কারেরও দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।

সংগঠনটির প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে যাচাই কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলে তাঁকে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে। একই সঙ্গে আত্মপক্ষ সমর্থন, ভুল তথ্য সংশোধন ও আপিল করার সুযোগ রাখতে হবে।

শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের ভিত্তিতে কাউকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া যাবে না বলেও দাবি জানানো হয়।

নিয়োগ পরীক্ষার মৌখিক মূল্যায়নেও পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।

সংগঠনটির প্রস্তাবে মৌখিক পরীক্ষার জন্য অভিন্ন মূল্যায়ন কাঠামো তৈরি, পরীক্ষকদের মূল্যায়নের রেকর্ড সংরক্ষণ এবং ভাইভার অডিও রেকর্ড রাখার কথা বলা হয়েছে।

এর ফলে মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা পর্যালোচনা করার সুযোগ থাকবে বলে মনে করে সংগঠনটি।

এ ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রক্সি পরীক্ষা এবং অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব।

দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিগবা, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মহিউদ্দিন খান এবং ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার সভাপতি আসিফ আব্দুল্লাহসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ