ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে ডিএমপির সব ইউনিট, গ্রেপ্তার ও মামলা; স্বাভাবিক হচ্ছে পোশাক কারখানার কার্যক্রম

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
ফলো করুন

রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত), ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর মো. মহিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে ব্যাপক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে মিরপুর-১, পল্লবীর বিভিন্ন এলাকা, রূপনগর, মিরপুর-১২ ও কাফরুল রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মাঠে কাজ করছেন।

মহিদুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনের নামে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি, সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িতদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের দাবি, মিরপুরের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি। বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন এবং কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা জানান, সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এই মুহূর্তে জানানো সম্ভব নয়। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কাউকে আটকের আগে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়া গেলে নিরীহ শ্রমিক ও পথচারীদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

অভিযানে পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। সব ইউনিটের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শ্রমিকদের উদ্দেশে মহিদুল ইসলাম বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা পুলিশের দায়িত্ব। আন্দোলনের নামে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড, কারখানায় আগুন দেওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবির বিষয়ে শ্রমিক মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে। প্রকৃত শ্রমিকরা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে যারা সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং তৈরি পোশাক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।

মহিদুল ইসলাম আরও বলেন, অপরাধীরা যত শক্তিশালীই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে, এমন কোনো কর্মকাণ্ড যাতে কেউ ঘটাতে না পারে, সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত), ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর মো. মহিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে ব্যাপক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে মিরপুর-১, পল্লবীর বিভিন্ন এলাকা, রূপনগর, মিরপুর-১২ ও কাফরুল রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মাঠে কাজ করছেন।

মহিদুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনের নামে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি, সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িতদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের দাবি, মিরপুরের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি। বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন এবং কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা জানান, সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এই মুহূর্তে জানানো সম্ভব নয়। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কাউকে আটকের আগে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়া গেলে নিরীহ শ্রমিক ও পথচারীদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

অভিযানে পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। সব ইউনিটের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শ্রমিকদের উদ্দেশে মহিদুল ইসলাম বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা পুলিশের দায়িত্ব। আন্দোলনের নামে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড, কারখানায় আগুন দেওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবির বিষয়ে শ্রমিক মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে। প্রকৃত শ্রমিকরা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে যারা সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং তৈরি পোশাক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।

মহিদুল ইসলাম আরও বলেন, অপরাধীরা যত শক্তিশালীই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে, এমন কোনো কর্মকাণ্ড যাতে কেউ ঘটাতে না পারে, সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ