গাজীপুরের গাছা থানার সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের জবাবে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট তৈরি হয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কয়েক হাজার শ্রমিক আকস্মিকভাবে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালের দিকে পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ করে শ্রমিকেরা সংঘবদ্ধ হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যান চলাচল সচল করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। জবাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং এতে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলতে থাকে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকাল থেকে সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাছা থানা এলাকায় আনুমানিক দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক আকস্মিকভাবে সড়কে নেমে আসেন। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হলে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাঁদের মহাসড়ক থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জয়দেবপুর এলাকায়ও কিছু শ্রমিক সড়কে নেমে বিঘ্ন সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন, তবে পুলিশ দ্রুত তৎপর হয়ে তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। বর্তমানে সালনা, রাজেন্দ্রপুর, শফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় যান চলাচল ও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কাশিমপুর এলাকায় কিছুটা থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রেখে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থান বজায় রাখা হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ